আরজি করের ‘আড়ালকারী’ ও হিসাব-বহির্ভূত সম্পত্তি, মমতা-অভিষেককে একযোগে ‘শেষ দেখার’ চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

রাজ্যের শাসনভার হাতে নেওয়ার পর এবং প্রথম এক সপ্তাহের কাজের খতিয়ান প্রকাশের পরপরই এবার পূর্বতন শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আরজি কর হাসপাতালের জঘন্যতম ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধি—এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখে শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ও হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছেন, এই দুই ‘কাণ্ডেরই’ তিনি শেষ দেখে ছাড়বেন এবং অপরাধীরা কোনোভাবেই পার পাবে না।
আরজি করে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করেছিল পূর্বতন সরকার: শুভেন্দু
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরজি কর কাণ্ড নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন। শুভেন্দুর সরাসরি অভিযোগ:
- আরজি করের সেই নারকীয় ঘটনার পর আসল অপরাধী ও মূল চক্রীদের আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার।
- তদন্তের গতিপ্রকৃতি ঘুরিয়ে দিতে এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে তৎকালীন স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে ছিল) সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল।
- নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই মামলার সমস্ত জট খুলতে এবং প্রকৃত দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দিতে প্রশাসন কোনো স্তরে আপস করবে না।
অভিষেকের সম্পত্তি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তৃণমূল জমানায় তাঁর এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের আকাশছোঁয়া সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, গত এক দশকে তৃণমূল সরকারে থাকার সুবাদে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার হিসাব-বহির্ভূত সম্পত্তি (Disproportionate Assets) বৃদ্ধি হয়েছে অভিষেকের। এই সমস্ত বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি আইন অনুযায়ী নিজেদের কাজ করবে এবং বেআইনিভাবে অর্জিত সাধারণ মানুষের টাকা উদ্ধার করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই শুভেন্দু অধিকারী ‘দুর্নীতি ও অপরাধ মুক্ত’ বাংলার যে বার্তা দিচ্ছিলেন, শনিবারের এই চাঁছাছোলা আক্রমণ তারই ধারাবাহিকতা। বিশেষ করে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে খোদ মমতা ও অভিষেকের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর এই ‘শেষ দেখার’ হুঁশিয়ারি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড়সড় আইনি ও প্রশাসনিক সংঘাতের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।