২৪ ঘণ্টাতেই বদল, বিজেপির নতুন ব্যানারে শমীককে সরিয়ে প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

দলীয় শৃঙ্খলা এবং শীর্ষ পদের মর্যাদার প্রশ্নে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের সাংগঠনিক কর্মসূচির ব্যানারে ছবির বিন্যাস (Layout) নিয়ে খোদ রাজ্য সভাপতির তোলা আপত্তির পর, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যজুড়ে দলীয় কর্মসূচির সমস্ত ব্যানার বদলে দিল বিজেপি। প্রকাশ করা হলো সম্পূর্ণ নতুন নকশা (Design), যেখানে রাজ্য সভাপতির ছবি সরিয়ে প্রথম স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।
কী নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন রাজ্য সভাপতি?
বিজেপি দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে তৈরি বেশ কিছু সাংগঠনিক কর্মসূচির ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল ব্যানারে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ছবি প্রথমে এবং তার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি রাখা হয়েছিল। প্রোটোকল অনুযায়ী সাধারণত দলীয় কর্মসূচিতে রাজ্য সভাপতির পদাধিকার ওপরে থাকলেও, শমীক ভট্টাচার্য নিজে এই বিন্যাস দেখে তীব্র আপত্তি তোলেন। দলের আইটি সেল ও প্রচার কমিটির কাছে তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেন, “কেন আমার ছবি আগে আর রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি পরে?”
শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, রাজ্যে ক্ষমতার ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখই দলের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি এবং ব্যানারে বা প্রচার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর ছবিই সবার আগে থাকা বাঞ্ছনীয়।
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন ও নতুন নকশা প্রকাশ
রাজ্য সভাপতির এই কড়া নির্দেশের পর আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি মুরলীধর সেন লেনের আইটি ও ডিজাইন টিম। শমীকের নির্দেশের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় রবিবার সকালে বিজেপির সমস্ত সাংগঠনিক জেলা ও সোশ্যাল মিডিয়া পেজের জন্য নতুন নকশা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন এই ফরম্যাটে দেখা যাচ্ছে:
- ব্যানারের অগ্রভাগে এবং সবচেয়ে প্রধান স্থানে রাখা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি।
- তার ঠিক পরেই স্থান পেয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাধারণত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে কে কার আগে ছবি পাবেন বা কার ছবি কত বড় হবে, তা নিয়ে নেতাদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই ও কোন্দল লেগেই থাকে। সেখানে নিজের ছবি প্রথমে থাকা সত্ত্বেও পদের অহংকার দূরে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদের সম্মান রক্ষায় শমীক ভট্টাচার্যের এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত এক বিরল রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির। এর ফলে সরকার ও সংগঠনের মধ্যে যে এক সুদৃঢ় সমন্বয় রয়েছে এবং নতুন সরকারের প্রথম সপ্তাহে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বকে দল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।