নতুন বিপদ হান্টাভাইরাস! নিরাপদ যৌন মিলনের কড়া পরামর্শ চিকিৎসকদের

নতুন বিপদ হান্টাভাইরাস! নিরাপদ যৌন মিলনের কড়া পরামর্শ চিকিৎসকদের

মেডিকেল ও জনস্বাস্থ্য গবেষণায় উঠে এল এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন তথ্য। গবেষণার রিপোর্ট অনুযায়ী, কোনো পুরুষ ‘হান্টাভাইরাস’ (Hantavirus) দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার পর, তাঁর শরীর থেকে ভাইরাসের বাহ্যিক লক্ষণ সম্পূর্ণ মিলিয়ে গেলেও এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেও, তাঁর শুক্রাণুতে (Semen) এই মারাত্মক ভাইরাস দীর্ঘ ৬ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাওয়া কোনো ব্যক্তির মাধ্যমেও তাঁর সঙ্গীর শরীরে যৌন মিলনের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার এক মারাত্মক ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠা পুরুষদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের এই নতুন পর্যবেক্ষণ চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বড়সড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুস্থ মানুষের শরীরেও লুকিয়ে থাকছে মারণ ভাইরাস

সাধারণত ইঁদুর বা রডেন্ট জাতীয় প্রাণীর মলমূত্র, লালা বা এদের কামড়ের মাধ্যমে হান্টাভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়ায়। এই ভাইরাসের সংক্রমণে ফুসফুসের মারাত্মক রোগ (Hantavirus Pulmonary Syndrome) বা কিডনির ক্ষতি হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কিন্তু নতুন এই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হান্টাভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দিয়ে পুরুষদের প্রজনন অঙ্গে বা শুক্রাণুতে বছরের পর বছর বাসা বেঁধে থাকতে সক্ষম। এই দীর্ঘ সময়ে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে সুস্থ বোধ করলেও, তিনি অজান্তেই একজন ‘সাইলেন্ট ক্যারিয়ার’ বা ভাইরাসের বাহক হিসেবে কাজ করেন।

চিকিৎসকদের কড়া নির্দেশিকা ও পরামর্শ

হান্টাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা পুরুষদের জন্য চিকিৎসকেরা এখন থেকেই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে তাঁদের পার্টনার বা সঙ্গী কোনোভাবে এই ভাইরাসে আক্রান্ত না হন। চিকিৎসকদের প্রধান পরামর্শগুলি হলো:

  • কন্ডোমের নিয়মিত ব্যবহার: হান্টাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী কয়েক বছর যেকোনো ধরণের যৌন মিলনের সময় বাধ্যতামূলকভাবে এবং সঠিকভাবে কন্ডোম ব্যবহার করতে হবে। এটি ভাইরাসের আদানপ্রদান রুখতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং: সংক্রমণ মুক্ত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় অন্তর চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শুক্রাণু পরীক্ষা বা সিমেন অ্যানালিসিস করানো উচিত, যাতে শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
  • লক্ষণ দেখা দিলে দূরত্ব বজায় রাখা: যদি কোনো কারণে শরীরে পুনরায় কোনো অস্বস্তি বা জ্বর-জ্বর ভাব দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে যৌন মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস আক্রান্তদের জন্য এই তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উদ্বেগের হলেও, সঠিক সচেতনতা এবং ‘নিরাপদ যৌন মিলন’ বা সেফ সেক্স (Safe Sex)-এর নিয়মাবলী মেনে চললে এই ভাইরাসের পরবর্তী সংক্রমণ সম্পূর্ণভাবে ঠেকানো সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *