আরজি করের এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের বন্ধ ঘরে রক্তের দাগ, নার্সের তোলা ভিডিও গায়েবের অভিযোগ সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’র ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘিরে ফের একবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো রাজ্যে। এবার এই মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া এবং হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে সরাসরি সিবিআই (CBI)-এর ভূমিকা ও তদন্তকারী আধিকারিকের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক ও মারাত্মক অভিযোগ তুললেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, আরজি করের এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের একটি নির্দিষ্ট ঘর এখনও রহস্যজনকভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে এবং তৎকালীন তদন্তকারী সিবিআই আধিকারিক একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন।
বন্ধ ঘরে রক্তের দাগ ও মৃতদেহ নামানোর তত্ত্ব
শনিবার আরজি কর কাণ্ড নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে এখনও এমন কিছু জায়গা রয়েছে যা তদন্তের পরিধির বাইরে রাখা হয়েছে। তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ:
- রক্তের দাগ: এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের একটি ঘর এখনও বন্ধ রয়েছে, যার ভেতরের দেওয়ালে স্পষ্ট রক্তের দাগ রয়েছে বলে দাবি তাঁর।
- মৃতদেহ সরানোর চেষ্টা: ঘটনার রাতে, অর্থাৎ যেদিন অভয়াকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল, সেদিন রাতের একটি সিসিটিভি বা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণী তুলে ধরে তিনি জানান, হাসপাতালের একটি নির্দিষ্ট সিঁড়ি দিয়ে একটি ডেডবডি বা মৃতদেহ নিচে নামানো হচ্ছিল বলে জোরালো আন্দাজ করা হচ্ছে।
সিবিআই আধিকারিক সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ
মামলাটির প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিবিআই-এর সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (CFSL) বা তদন্তকারী দলের অন্যতম প্রধান কর্তা সীমা পাহুজার (Seema Pahuja) ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন প্রাক্তন বিচারপতি। তিনি দাবি করেন, সীমা পাহুজা তদন্তে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা ‘ভাইটাল লিঙ্ক’ এড়িয়ে গিয়েছেন:
- ভিডিও গায়েব করার অভিযোগ: অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, ঘটনার রাতে হাসপাতালের এক নার্স নিজের মোবাইল ফোনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও তুলেছিলেন। সেই ভিডিওটিতে মামলার অনেক বড় রহস্য লুকিয়ে ছিল। কিন্তু তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজা ওই নার্সের কাছ থেকে ভিডিওটি নিজের জিম্মায় নিয়ে নেন, যা পরবর্তীতে তদন্তে আর সেভাবে সামনে আনা হয়নি।
বিজেপি সাংসদের এই বিস্ফোরক দাবির পর আরজি কর মামলার তদন্তের অভিমুখ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে চর্চা শুরু হয়েছে। যেখানে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে সিবিআই এই মামলার চার্জশিট গঠন করেছে, সেখানে খোদ শাসক দলের এক সাংসদ তথা দেশের প্রাক্তন হাই কোর্টের বিচারপতির মুখে তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ আড়াল করার এই অভিযোগ আগামী দিনে সিবিআই-এর ওপর আইনি চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।