নিট প্রশ্ন ফাঁসে ফের বড় সাফল্য, দীর্ঘ জেরার পর দিল্লি থেকে পুণের উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষিকা মনীষা গ্রেফতার

মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট ইউজি’ (NEET-UG)-র প্রশ্নপত্র ফাঁসের আন্তঃরাজ্য চক্রের জাল কাটতে এবার আরও এক বড় ‘মাথা’ তথা মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেফতার করল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)। নিট পরীক্ষার জীবনবিজ্ঞানের (Biology) প্রশ্ন ফাঁসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এবার পুণের এক নামী উদ্ভিদবিদ্যার (Botany) শিক্ষিকাকে নিজেদের হেফাজতে নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই শিক্ষিকার নাম মনীষা গুরুনাথ মানধার।
এই মেগা গ্রেফতারির পর নিট প্রশ্ন ফাঁস চক্রের শিকড় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কতটা গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
দীর্ঘ জেরার পর দিল্লি থেকে গ্রেফতার
তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রশ্ন ফাঁসের এই আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য চক্রের আর্থিক লেনদেন এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট খতিয়ে দেখার সময়ই পুণের বাসিন্দা মনীষা গুরুনাথ মানধারের নাম প্রথম সামনে আসে। সিবিআই-এর দাবি, নিটের জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগেই নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে এই শিক্ষিকার সরাসরি ভূমিকা ছিল।
প্রাথমিকভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লির সিবিআই সদর দপ্তরে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়ে প্রথম দিকে তিনি তথ্য গোপন করার এবং বয়ানে অসঙ্গতি রাখার চেষ্টা করেন। এরপর সিবিআই কর্তাদের ম্যারাথন ও টানা জেরার মুখে তাঁর বয়ানের একাধিক ফাঁক ও প্রশ্ন ফাঁসে তাঁর সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মেলার পরেই শনিবার রাতে দিল্লি থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।
পুণে যোগে আরও জোরালো তদন্তের ইঙ্গিত
তদন্তকারীদের মতে, ধৃত শিক্ষিকা মনীষা পুণের বাসিন্দা হওয়ায় এই চক্রের পরিধি মহারাষ্ট্রের শিক্ষা মহলেও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে নিট ফাঁসের ঘটনায় বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং গুজরাত থেকে একাধিক এজেন্ট, সরকারি আধিকারিক ও পড়ুয়াদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবার পুণের এক নামী বিষয়ের শিক্ষিকা গ্রেফতার হওয়ায় সিবিআই-এর অনুমান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করা এবং উত্তরপত্র (‘Answer Key’) তৈরি করে তা কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার যে কোর টিম কাজ করছিল, মনীষা ছিলেন তারই অন্যতম প্রধান অংশ।
ধৃত মনীষা গুরুনাথ মানধারকে আজই দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবেন তদন্তকারীরা। তাঁকে হেফাজতে পেয়ে মুখোমুখি জেরা করলে এই চক্রের সঙ্গে আর কোন কোন বড় বড় কোচিং সেন্টার বা প্রভাবশালীদের যোগ রয়েছে, তার অনেক নতুন তথ্য সামনে আসবে বলে আশাবাদী সিবিআই।