ইদের আগে পশুবলি নির্দেশিকায় ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, জট কাটাতে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী

ইদের আগে পশুবলি নির্দেশিকায় ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, জট কাটাতে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী

সামনেই কুরবানি ইদ, অথচ উৎসবের মরসুমের মুখে দাঁড়িয়েও রাজ্যজুড়ে কার্যত স্তব্ধ গবাদি পশুর কেনাবেচা। রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক ‘পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা’ ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির জেরে চরম বিপাকে পড়েছেন পশুপালকেরা। গরু বিক্রি না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বহু ব্যবসায়ী। এই পরিস্থিতিতে সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং খুব দ্রুতই এই জট কাটতে চলেছে।

বিভ্রান্তি ও ব্যবসায়িক সংকট

গত ১৩ মে রাজ্য সরকারের তরফে ‘পশুবলি সংক্রান্ত নির্দেশিকা’ মেনে চলার জন্য একটি গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলিতে পশুপালকদের মনে এক গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইদের ঠিক আগে গবাদি পশুর বাজার থমকে যাওয়ায় একদিকে যেমন পশুব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, অন্য দিকে তেমনই সংখ্যালঘু মানুষের ধর্মীয় আচার পালন নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল। এই বিভ্রান্তি কাটাতে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সুনির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিতকরণের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী।

সমাধানের খোঁজে রাজ্য সরকার

নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে ওবিসি তালিকা সংশোধন-সহ একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পাশাপাশি পশুব্যবসায়ীদের বর্তমান দূরবস্থার প্রসঙ্গটি নিয়ে মুখ খোলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী গোটা বিষয়টা নিজে দেখছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব তাড়াতাড়ি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার। পুরো বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বিশদে জানাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর মনে করা হচ্ছে, উৎসবের আবেগ এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের আইনি গাইডলাইন— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই রাজ্য সরকার খুব শীঘ্রই একটি মধ্যপন্থা ঘোষণা করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *