ভীষণ গরমে এবার গন্তব্য হোক আসামের রূপসী শৈলশহর উমরাংসু, রইল খুঁটিনাটি

গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে বাঁচতে বাঙালির প্রথম পছন্দ পাহাড়। গরম পড়তেই অধিকাংশ পর্যটক ভিড় জমাচ্ছেন দার্জিলিং, কালিম্পং কিংবা নৈনিতালে। তবে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য আসামেও যে এমন এক লুকিয়ে থাকা নৈসর্গিক শৈলশহর রয়েছে, তা অনেকেরই অজানা। আসাম মানেই পর্যটকদের চোখে ভেসে ওঠে কাজিরাঙা বা মানসের জঙ্গল। কিন্তু এর বাইরেও ডিমা হাসাও জেলার উমরাংসু হতে পারে এই গ্রীষ্মের ছুটির এক আদর্শ ও শান্তিময় গন্তব্য।
প্রকৃতির রূপ ও শান্ত জীবনযাপন
গগনচুম্বী পাহাড় না থাকলেও উমরাংসুর প্রতিটি পাহাড়ি বাঁক এবং সহজ-সরল জীবনযাত্রা যেন ক্যানভাসে আঁকা ছবির মতো। এখানকার আবহাওয়া বেশ মনোরম, যেখানে হাড়কাঁপানো ঠান্ডাও নেই আবার সমতলের মতো গা জ্বালানো গরমও নেই। গরমকালে এখানকার তাপমাত্রা সাধারণত ১৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো কপিলি নদীর ওপর গড়ে ওঠা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি কৃত্রিম হ্রদ, যা ১৯৭০-৮০ সালের মধ্যে খনন করা হয়েছিল। সবুজ পাহাড় ঘেরা এই সুবিশাল জলাশয়ের সূর্যাস্ত দেখার মতো অনুভূতি তৈরি করে।
উত্তর-পূর্বের নায়াগ্রা ও অন্যান্য আকর্ষণ
উমরাংসুর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো জলমুর জলপ্রপাত। কপিলি নদী পাথুরে পথ বেয়ে নামার সময় এই নয়নকাড়া জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে ‘উত্তর-পূর্বের নায়াগ্রা’ বলে অভিহিত করেন। গরমের সময়ে এখানে জল কিছুটা কম থাকলেও নৌবিহারের আনন্দ নেওয়া যায়। এছাড়াও পর্যটকরা এখান থেকে ঘুরে নিতে পারেন স্থানীয় গলফ কোর্স এবং উপভোগ করতে পারেন জনজাতিদের ঐতিহ্যবাহী খাবার। উমরাংসুর পাশাপাশি মাত্র ১১০-১২০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ঘুরে নেওয়া যায় আসামের আরেকটি জনপ্রিয় পাহাড়ি শহর হাফলং। হাফলং হ্রদ, অর্কিড বাগান এবং জটিঙ্গা গ্রাম এই অঞ্চলের অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান।
ভ্রমণের কারণ ও পর্যটনে সম্ভাব্য প্রভাব
অতিরিক্ত শহুরে ব্যস্ততা এবং চেনা পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উপচে পড়া ভিড় এড়াতেই মানুষ এখন উমরাংসুর মতো অফবিট বা স্বল্পচেনা জায়গার সন্ধান করছেন। কম খরচে এবং মাত্র দুই-তিন দিনের ছুটিতে এই শান্ত শৈলশহর ভ্রমণ মানসিক ক্লান্তি দূর করতে দারুণ সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে উমরাংসুর মতো লুকিয়ে থাকা পর্যটনকেন্দ্রগুলোর প্রচার বাড়লে আগামী দিনে আসামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি আসাম পর্যটনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা
কলকাতা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে গুয়াহাটি হয়ে উমরাংসু যাওয়া সম্ভব। এছাড়া ট্রেনে শিয়ালদহ থেকে নিউ হাফলং স্টেশনে নেমে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে সহজেই পৌঁছানো যায় এই শৈলশহরে। পর্যটকদের থাকার জন্য উমরাংসু এবং হাফলং—উভয় জায়গাতেই ভালো হোটেল ও সরকারি অতিথি নিবাস রয়েছে। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য হ্রদের ধারে ক্যাম্পিং বা তাঁবুতে থাকার সুবন্দোবস্তও রয়েছে।