দুর্গে পুনর্নির্বাচনের কঠিন পরীক্ষা, ফলতায় সেনাপতি অভিষেকের অনুপস্থিতি ঘিরে জোর জল্পনা তৃণমূলে
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/03/abhishek-banerjee-2026-05-03-07-59-11.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
যে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে গত লোকসভা নির্বাচনে সর্বাধিক লিড পেয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই নিজের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত নিরাপদ আসনেই এবার পুনর্নির্বাচনের প্রচারে দেখা মিলল না তাঁর। রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে আগামী বৃহস্পতিবার ফলতায় পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে। কিন্তু এই চরম রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষার মুহূর্তে দলের সেনাপতির অনুপস্থিতি নিয়ে খোদ তৃণমূলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে তীব্র হতাশা ও নানা প্রশ্ন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান কার্যত রাজনৈতিক মই ছাড়াই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কঠিন লড়াইয়ে পড়েছেন।
নেতৃত্বের অন্তরালে হতাশ কর্মীরা, প্রশ্নের মুখে ডায়মন্ড হারবার মডেল
গত বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর এই পুনর্নির্বাচন তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত মর্যাদার লড়াই। কিন্তু প্রচারের শেষ লগ্নেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকা না-মাড়ানোয় স্থানীয় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ্য চলে এসেছে। তৃণমূলের একাংশের মতে, যেখানে দলের কর্মীরা হতোদ্যম, সেখানে সামনের সারিতে থেকে সেনাপতির নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এদিকে, ভোটের দিন ফলতার ২৮৫টি বুথেই নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন গোটা বিধানসভা কেন্দ্রেই নতুন করে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। এই পুনর্নির্বাচনের ঘোষণার পর থেকেই অভিষেকের বহুচর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ফলতা এমনিই দলের শক্ত দুর্গ এবং সেখানে ভোট লুট না হলে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত, তাই অভিষেকের আলাদা করে প্রচারের প্রয়োজন নেই।
নিরাপত্তা হ্রাস ও বিজেপির আক্রমণাত্মক কৌশল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই অনুপস্থিতির পেছনে মূলত তাঁর ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা ও বিশেষ পাইলট সুবিধা প্রত্যাহার অন্যতম কারণ হতে পারে, যার ফলে প্রতিপক্ষের বিক্ষোভ বা হেনস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। ফলতায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে। শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, অতীতে ভোট-পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে এবার কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেছেন, পুলিশ ও কনভয়ের সুবিধা না থাকায় এখন আর তৃণমূলের সেই হুঙ্কার শোনা যাচ্ছে না।
বদলানো রাজনৈতিক সমীকরণ ও ‘পুষ্পা’র ভবিষ্যৎ
কয়েক দিন আগেও যে জাহাঙ্গির খান উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট আইপিএস অজয়পাল শর্মার উদ্দেশ্যে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে অহংকার করেছিলেন, আজ রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলে যাওয়ায় গ্রেফতারি এড়াতে তাঁকে হাইকোর্টের রক্ষাকবচের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতার মাঝে ফলতার এই পুনর্নির্বাচন তৃণমূলের জন্য কেবল একটি আসন ধরে রাখার লড়াই নয়, বরং ডায়মন্ড হারবারে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও দাপট বজায় রাখার এক কঠিন পরীক্ষা।