বীরভূমে নির্মীয়মাণ বাড়িতে মজুত বোমা বিস্ফোরণ, জখম ৪; বাড়ির মালিকসহ গ্রেফতার ২

বীরভূমে নির্মীয়মাণ বাড়িতে মজুত বোমা বিস্ফোরণ, জখম ৪; বাড়ির মালিকসহ গ্রেফতার ২

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বীরভূম জেলা জুড়েই বেআইনি অস্ত্র ও বোমা উদ্ধারে পুলিশের লাগাতার তল্লাশি চলছে। ঠিক এই আবহের মধ্যেই বীরভূমের মাড়গ্রামে এক ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। সোমবার গভীর রাতে মাড়গ্রাম থানার ধুলফেলা মোড় এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে মজুত করে রাখা বোমা ফেটে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় চারজন মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। বিস্ফোরণের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মাড়গ্রাম থানার পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নির্মীয়মাণ বাড়ির মালিকসহ মোট দু’জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মজুত বোমা সরাতে গিয়েই বিপত্তি, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধুলফেলা মোড় এলাকার ওই নির্মীয়মাণ বাড়িটিতে বিপুল পরিমাণ শক্তিশালী তাজা বোমা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সোমবার গভীর রাতে পুলিশি অভিযানের ভয়ে বা অন্য কোনো গোপন উদ্দেশ্যে সেই মজুত বোমাগুলি অন্য জায়গায় সরাতে গিয়েছিলেন কয়েকজন যুবক। আর সেই সময় হাত থেকে পড়ে বা অন্য কোনোভাবে ঘর্ষণের ফলে একটি শক্তিশালী বোমা ফেটে যায়।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে নির্মীয়মাণ বাড়ির দেওয়ালের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই চারজন রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি করে। চিকিৎসকদের সুত্রে খবর, আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

কী কারণে বোমা মজুত? নেপথ্যে সিন্ডিকেট নাকি রাজনৈতিক চক্রান্ত?

বিগত সরকারের জমানায় বীরভূম জেলা বারবার বোমা-বারুদের স্তূপ এবং রাজনৈতিক হিংসার কারণে শিরোনামে এসেছে। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জেলাজুড়ে দুষ্কৃতীদের দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে মাড়গ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় কেন এবং কী উদ্দেশ্যে একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে এত বোমা মজুত করা হয়েছিল, তা নিয়ে গভীর রহস্য দানা বেঁধেছে।

স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, এলাকায় নতুন করে অশান্তি পাকানো বা কোনো বড়সড় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যেই এই বারুদের স্তূপ সাজানো হয়েছিল। মাড়গ্রাম থানার এক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃত বাড়ির মালিককে জেরা করে এই চক্রের বাকিদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। এলাকায় আর কোথাও বেআইনি বোমা বা অস্ত্র লুকিয়ে রাখা আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আজ সকাল থেকেই ধুলফেলা মোড় ও সংলগ্ন এলাকায় মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াডের প্রতিনিধিরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *