হাসপাতাল থেকে জঙ্গল! বাম আমলের সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আজ ভয়ংকর পরিণতি

একদা যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা আসতেন সুস্থ হতে, আজ সেই প্রাঙ্গণই মরণফাঁদ। ১৯৫১ সালে পথ চলা শুরু করা পূর্ব বর্ধমানের ঐতিহাসিক কাশিয়ারা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আজ প্রশাসনিক উদাসীনতায় জরাজীর্ণ জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এক সময়ের সচল এই চিকিৎসালয়টি বর্তমানে কর্মী ও চিকিৎসকের চরম অভাবে ধুঁকছে। স্থানীয় স্তরে নাম পরিবর্তন করে ‘গোবিন্দপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র’ করা হলেও, চিকিৎসার মান তলানিতে ঠেকেছে। বাম জমানার পতনের পর রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং দিন দিন পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে।
পরিষেবা বন্ধের নেপথ্যে অব্যবস্থা ও দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মাত্র ৪ জন চিকিৎসক ও ৯ জন কর্মী নিয়ে এই কেন্দ্রটিতে চিকিৎসা পরিষেবা শুরু হয়েছিল। একসময় এখানে প্রসূতি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার এবং অন্তর্বিভাগ চালু ছিল। এমনকি সাপে কাটা রোগীদেরও সফল চিকিৎসা করা হতো এখানে। কিন্তু বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পিছনের স্টাফ কোয়ার্টারগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুপুর তিনটের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হতেই সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মদের আসর বসে। চারপাশ জঙ্গলে ঢেকে যাওয়ায় পুরো চত্বরটি এখন সাপ ও পোকামাকড়ের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
রেফার রোগেই ধুঁকছে গ্রামীণ চিকিৎসা ব্যবস্থা
বর্তমানে এখানে কোনো স্থায়ী বা নিয়মিত চিকিৎসক নেই। ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে রোটেশন মাফিক চিকিৎসকেরা এলেও তাঁদের হাজিরা নিয়মিত নয়। ফলে চিকিৎসা করাতে এসে প্রতিদিন বহু রোগীকে ফিরে যেতে হচ্ছে। সামান্য কোনো সমস্যা হলেই রোগীদের ১৫ কিলোমিটার দূরে বর্ধমান হাসপাতালে অথবা বড়শুল ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রেফার করে দেওয়া হয়। জরুরি অবস্থায় এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, এলাকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই দুরাবস্থার পেছনে শাসক দলের দুর্নীতি ও উদাসীনতাকে দায়ী করে তদন্ত ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধুনিকীকরণের দাবি তুলেছেন। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে চিকিৎসকের অভাব দূর করে এখানে পুনরায় অন্তর্বিভাগ ও প্রসবকালীন চিকিৎসা চালু করা হোক এবং এর পুরনো নাম ফিরিয়ে দেওয়া হোক।