তালাবন্ধ মূল কক্ষ, অলিন্দেই বসল কলকাতা পুরসভার নজিরবিহীন ঐতিহাসিক অধিবেশন!

কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে তৈরি হলো এক বেনজির এবং নজিরবিহীন প্রশাসনিক সংকট। শুক্রবার পূর্ব নির্ধারিত মাসিক অধিবেশনে যোগ দিতে এসে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হলো মেয়র, ডেপুটি মেয়রসহ শাসকদলের কাউন্সিলরদের। মূল অধিবেশন কক্ষটি রহস্যজনকভাবে তালাবন্ধ থাকায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বাইরের ‘কাউন্সিলর ক্লাব রুমে’ই বসাতে হলো পুরসভার অফিশিয়াল বৈঠক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভার অন্দরে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বন্ধ কক্ষ ও বিকল্প বৈঠক
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনেই শুক্রবার কেএমসি সদর দফতরে মাসিক অধিবেশনে যোগ দিতে এসেছিলেন কাউন্সিলররা। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, মূল অধিবেশন কক্ষের দরজায় তালা ঝুলছে। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তথা কেএমসি-র চেয়ারপারসন মালা রায় নিজে কক্ষটি খুলে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অনুরোধ জানালেও দীর্ঘক্ষণ সেই তালা খোলা হয়নি। অভিযোগের তির সরাসরি পুর কমিশনারের নির্দেশের দিকে। অগত্যা চরম বাধ্য হয়ে মালা রায় মূল কক্ষের বাইরে, পাশের কাউন্সিলর ক্লাব রুমেই বিকল্প বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নেন।
মাইকহীন ঘরে চরম বিশৃঙ্খলা
বিকল্প এই সভাগৃহটি কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক অধিবেশন পরিচালনার জন্য একেবারেই উপযুক্ত ছিল না। ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত বসার জায়গা বা কোনো মাইক ব্যবস্থা না থাকায় কাউন্সিলরদের নিজেদেরই টেবিল-চেয়ার টেনে ঘর গোছাতে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত চরম বিশৃঙ্খলা ও হইহট্টগোলের মধ্যেই অধিবেশন শুরু হয়। কোনো মাইক্রোফোন না থাকায় ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ খালি গলাতেই নিজের বক্তব্য পেশ করতে বাধ্য হন। এই নজিরবিহীন অধিবেশনে মেয়র ফিরহাদ হাকিম সহ অন্যান্য কাউন্সিলর এবং পৌর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংঘাতের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই নজিরবিহীন ঘটনার নেপথ্যে মূলত পুরসভার জনপ্রতিনিধি এবং শীর্ষ আমলাতন্ত্রের মধ্যেকার তীব্র সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক সংঘাত কাজ করছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। তৃণমূলের তরফে গোটা ঘটনার দায় সরাসরি চাপানো হয়েছে পুর কমিশনারের ওপর। কলকাতা পুরসভার মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এমন নজিরবিহীন ঘটনা আগামী দিনে পুরসভার স্বাভাবিক কার্যকারিতা বিঘ্নিত করতে পারে। আমলা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এই খোলামেলা বিরোধের ফলে নাগরিক পরিষেবা প্রদান এবং গুরুত্বপূর্ণ পুর-সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।