পুজোর আগেই কি মিটবে ডিএ জট, কর্মচারীদের ক্ষোভ সামলাতে এবার নবান্নে খোদ মুখ্যমন্ত্রী!

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে এবার নিজেই সরাসরি ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৩০শে মে নবান্ন সভাগৃহে রাজ্যের চারটি প্রধান সরকারি কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন তিনি। সাম্প্রতিক অতীতে কোনো মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে এভাবে সরাসরি আলোচনায় বসার নজির নেই। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বকেয়া ডিএ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠকেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর, এবার ডিএ-র জট কাটানোকেই পাখির চোখ করেছে নবান্ন।
বকেয়ার পাহাড় ও রাজকোষের টানাটানি
কর্মচারী মহল মূলত দুটি পর্যায়ের ডিএ বকেয়া নিয়ে চিন্তিত। প্রথমত, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া ডিএ, যা মেটানোর জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। পূর্ববর্তী সরকার আদালতের নির্দেশের পর সেই বকেয়ার মাত্র সামান্য একটি অংশ মেটানোয় সিংহভাগ দায়ভার এসে পড়েছে বর্তমান প্রশাসনের ওপর। অর্থ দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এই মেয়াদের জমে থাকা বকেয়া মেটাতেই রাজ্যের প্রয়োজন প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা। দ্বিতীয়ত, ২০২০ সালে ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকরের পর থেকে বকেয়া থাকা ডিএ। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ৬০ শতাংশ ডিএ পেলেও, রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন মাত্র ১৮ শতাংশ। ফলে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র ফারাক বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে, যা ঘোচাতে গেলে রাজ্য কোষাগার থেকে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৩০,০০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ করতে হবে।
ঐতিহাসিক বৈঠকের দিকে তাকিয়ে কর্মী মহল
আর্থিক সংকটে জর্জরিত রাজ্যের পক্ষে একলপ্তে এত বড় বোঝা বহন করা অত্যন্ত কঠিন হলেও, শুভেন্দু সরকার কর্মচারীদের এই দাবির প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল বলেই নবান্ন সূত্রে খবর। বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে সরকার পরিবর্তন হলে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। ফলে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ওপর ভরসা রেখেই সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবার ভোট দিয়েছেন। তাই রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে জানতে ৩০শে মে-র এই বৈঠকের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছেন সমস্ত স্তরের কর্মচারীরা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের অভাব-অভিযোগ নিজে শুনবেন এবং এই বিশাল আর্থিক বোঝা সামলে কীভাবে রফাসূত্রে পৌঁছানো যায়, সেই বিষয়ে সরকারের রূপরেখা স্পষ্ট করবেন বলে জানা গেছে।