ডলারের তুলনায় ১০০ টাকার ভয় কাটিয়ে আরবিআই-কে স্বাধীন ছাড় দেওয়ার সওয়াল অরবিন্দ পানাগারিয়ার!

ডলারের তুলনায় ১০০ টাকার ভয় কাটিয়ে আরবিআই-কে স্বাধীন ছাড় দেওয়ার সওয়াল অরবিন্দ পানাগারিয়ার!

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা রুপির ক্রমাগত পতনের মধ্যেও বড়সড় আশার আলো দেখছেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা। ষোড়শ অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান তথা নীতি আয়োগের প্রাক্তন ভাইস-চেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগারিয়ার মতে, ডলারের তুলনায় রুপির দাম ১০০ টাকা ছাড়ালেও দেশের অর্থনীতির ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-এর উচিত কৃত্রিমভাবে টাকার দাম ধরে রাখার চেষ্টা না করে, তাকে স্বাভাবিক নিয়মে দুর্বল হতে দেওয়া। বর্তমানে প্রতি ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দর যখন ৯৬.১৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে, তখন এই পরামর্শ দেশের অর্থনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

টাকার পতনে কেন লাভ দেখছেন অর্থনীতিবিদরা

বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়া এবং তেলের বাজারের অস্থিরতাকে টাকার এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অরবিন্দ পানাগারিয়ার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই সংকট যদি স্বল্পমেয়াদী অর্থাৎ ৩ মাস থেকে ১ বছরের জন্য হয়, তবে বাজার নিজের নিয়মেই আবার ঘুরে দাঁড়াবে। প্রাথমিক ধাক্কায় টাকার দাম কমলেও, পরবর্তীতে তেল আমদানির খরচ কমলে এবং সস্তা টাকার সুবিধা নিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতে পুঁজি বিনিয়োগ করলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। ফলে টাকার এই সাময়িক অবমূল্যায়ন ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে।

কৃত্রিমভাবে টাকা বাঁচানোর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি

সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে টাকার দাম জোর করে ধরে রাখার পরিণাম মারাত্মক হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক যদি বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার খরচ করে বা সুদের হার পরিবর্তন করে টাকার পতন রুখতে চায়, তবে আখেরে দেশের বড় লোকসান হবে। এতে একসময় ভারতের নিজস্ব বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ শূন্য হয়ে যেতে পারে। এছাড়া অনাবাসী ভারতীয়দের (এনআরআই) জন্য উচ্চ সুদের ডলার আমানত বা ডলার-ভিত্তিক বন্ডের মতো সাময়িক পদক্ষেপগুলোকে কেবলই ‘ব্যান্ড-এইড’ বা ক্ষণস্থায়ী মলম হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই উচ্চ সুদের বন্ডগুলোর ব্যয়ভার অত্যন্ত বেশি, যা আসলে দেশের তহবিল থেকে ধনী এনআরআইদের পকেটে টাকা হস্তান্তরের সামিল।

২০১৩ সালের চেয়ে শক্তিশালী বর্তমান অর্থনীতি

টাকার দাম কমলে সামান্য মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে ভারতের বর্তমান অর্থনীতি সেই ধাক্কা সামলাতে পুরোপুরি সক্ষম। ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময় দেশে মুদ্রাস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে আরবিআই-এর বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নীতির কারণে ভারতের অর্থনৈতিক ভিত যথেষ্ট মজবুত। ফলে ১০০ টাকার মনস্তাত্ত্বিক বাধা পার হলেও ভারতীয় অর্থনীতি বড় কোনো বিপর্যয়ের মুখে পড়বে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে তা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *