সাধারণ মানুষের পকেটে টান, এবার দাম বাড়ছে ৩০০টিরও বেশি জরুরি ওষুধের!

সাধারণ মানুষের পকেটে টান, এবার দাম বাড়ছে ৩০০টিরও বেশি জরুরি ওষুধের!

দেশের আমজনতার চিকিৎসা খরচে বড়সড় ধাক্কা লাগতে চলেছে। প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক, হার্টের ওষুধ ও ভিটামিনসহ প্রায় ৩০০টিরও বেশি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম এককালীন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র সরকার। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে ওষুধ তৈরির কাঁচামালের আকাশছোঁয়া খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের মূল্য সাময়িকভাবে বাড়ানো যায় কি না তা নিয়ে বর্তমানে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA), ডিপার্টমেন্ট অফ ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বাণিজ্য মন্ত্রকের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।

কোন কোন ওষুধ এবং কেন এই মূল্যবৃদ্ধি

দাম বাড়ার এই তালিকায় রয়েছে সাধারণ মানুষের নিত্যব্যবহার্য একাধিক ওষুধ। এর মধ্যে রয়েছে প্যারাসিটামলের মতো ব্যথানাশক, অ্যামোক্সিসিলিন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক। এছাড়াও হৃদরোগের জন্য জরুরি ওষুধ অ্যামলোডিপিন ও অ্যাটরভাস্ট্যাটিন, স্টেরয়েড ডেক্সামেথাসোন এবং ভিটামিন জাতীয় ওষুধ অ্যাসকরবিক অ্যাসিডের দামও বাড়তে চলেছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পশ্চিম এশিয়ার চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাত। ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (API) এবং পেট্রোকেমিক্যাল থেকে তৈরি সলভেন্টের মতো প্রয়োজনীয় উপাদানের জন্য আমদানির ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে প্রোপিলিন, অ্যামোনিয়া এবং মিথানলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের দাম প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঁচামালের এই লাগামহীন দামের কারণে বিশেষ করে দেশের ছোট ও মাঝারি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

বাজার ও সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

উৎপাদন খরচ হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন ওষুধ শিল্প সংগঠনগুলি সরকারের কাছে ওষুধের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ওষুধের দাম বাড়ানো না হলে প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে, যার ফলে বাজারে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যাহত হতে পারে। এতে বাজারে জীবনদায়ী ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সূত্রের খবর, এই মূল্যবৃদ্ধিকে স্থায়ী রূপ দিতে চাইছে না কেন্দ্র সরকার। মূলত বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধির কথা ভাবা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আবার স্থিতিশীল হলে বর্ধিত দাম পুনরায় কমিয়ে আনা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *