মে মাসের বেতনের সঙ্গেই মিলবে তিন বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ, বড় স্বস্তিতে সরকারি কর্মীরা

রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য এক বিরাট সুখবর নিয়ে এলো প্রশাসন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মে মাসের বেতনের সঙ্গেই পঞ্চম, ষষ্ঠ এবং সপ্তম বেতন কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। মূলত মহারাষ্ট্র সরকারের তরফ থেকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার চাকরিরত কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী একসঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকা হাতে পেতে চলেছেন। দীর্ঘদিনের বকেয়া এই টাকা ধাপে ধাপে মেটানো হবে বলে জানা গেছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ডিএ বাকি থাকায় চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়েছিলেন সরকারি কর্মীরা। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল অনেক পরিবারকেই। কর্মচারী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের দাবির পর সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই কর্মীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এখনও পর্যন্ত টাকা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ বা কিস্তির বিন্যাস নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা না হলেও, প্রশাসনিক সূত্রে খবর যে খুব শীঘ্রই অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
অর্থনীতি ও বাজারের সম্ভাব্য প্রভাব
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একসঙ্গে তিনটি বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ মেটানোর এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের কোষাগারের উপর বিপুল আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। তবে এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি কর্মীদের মধ্যে যেমন অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা যাবে, তেমনই বাজারেও এর একটি বড় প্রভাব পড়বে। কর্মীদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ আসায় উৎসবের মরশুমের আগে সাধারণ মানুষের কেনাকাটা ও খরচের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিকভাবে রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করতে পারে।
অন্য দিকে, এই সিদ্ধান্তের একটি দেশব্যাপী প্রভাবও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মহারাষ্ট্র সরকারের এই বড় পদক্ষেপের পর অন্যান্য রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই দৃষ্টান্তের পর আগামী দিনে অন্যান্য রাজ্য সরকারগুলিও তাদের কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা মেটানোর ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে।