দেশের ওপর দিয়ে ধেয়ে আসছে আগুনের সুনামি, তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

মে মাসের চড়া রোদে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র দাবদাহের তাণ্ডব। দেশের একাধিক প্রান্তে তাপমাত্রা প্রায় ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ২৮ মে পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ভারতের এক বিস্তীর্ণ অংশে এই মারাত্মক গরম ও তাপপ্রবাহ বজায় থাকবে। আবহাওয়া অফিসের এই ভয়ঙ্কর সতর্কতায় দেশজুড়ে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দাবদাহের কারণ ও বিস্তৃতি
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৮ মে-র মধ্যে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং পূর্ব মধ্যপ্রদেশে তীব্র তাপপ্রবাহ চলবে। একই সময়ে পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজধানী দিল্লিও দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহের কবলে পড়তে চলেছে, যার মধ্যে ২৪ থেকে ২৭ মে-র মধ্যে গরমের তীব্রতা সবচেয়ে মারাত্মক রূপ নিতে পারে। রাজস্থানেও ২৪ থেকে ২৮ মে-র মধ্যে চরম আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, তেলঙ্গানা এবং উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় আগামী সপ্তাহে দফায় দফায় হিটওয়েভ চলবে। এমনকি হিমালয় সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলেও স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা অনেকটাই বেশি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। গত শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায় পারদ সর্বোচ্চ ৪৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
দিল্লিতে বাড়ছে উদ্বেগ ও প্রশাসনের তৎপরতা
রাজধানী দিল্লিতে গত শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৪৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া দপ্তরের আশঙ্কা, আগামী দিনগুলিতে দিল্লির তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসও পার করে যেতে পারে। এই টানা চরম আবহাওয়ার কারণে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জলের চাহিদাও তুঙ্গে পৌঁছেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। শিশু, প্রবীণ এবং আগে থেকেই কোনো না কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত গরমে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুপুরবেলার কড়া রোদে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলতে, শরীর হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল, ওআরএস (ORS) পান করতে এবং হালকা সুতির পোশাক পরিধান করতে বলা হয়েছে।
বঙ্গে দ্বিমুখী আবহাওয়ার দাপট ও জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা
এদিকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ যখন ঘামের বন্যায় ভাসছে, ঠিক তখনই হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতার কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে এই বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, গরম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। উল্টে বৃষ্টি থামার পর বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ একলাফে বেড়ে যাবে, ফলে ভ্যাপসা গরমের দাপট আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণবঙ্গের জন্য আবহাওয়া দফতর এক দ্বিমুখী সতর্কতা জারি করেছে; একদিকে দুপুরের দিকে তীব্র অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে, অন্যদিকে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে ধেয়ে আসতে পারে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাত। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও দিনের বেলায় আবহাওয়া অত্যন্ত গরম থাকবে। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলার অধিকাংশ জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার ফলে নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। ধসপ্রবণ দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার দু-একটি জায়গায় ভারী বৃষ্টির কারণে পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।