ভারত যা চাইবে তাই পাবে, দিল্লির মঞ্চে মোদির প্রতি ভালোবাসার দরাজ বার্তা ট্রাম্পের

ভারত যা চাইবে তাই পাবে, দিল্লির মঞ্চে মোদির প্রতি ভালোবাসার দরাজ বার্তা ট্রাম্পের

বিশ্বজুড়ে ইউক্রেন-রাশিয়া, ইজরায়েল-হামাস এবং ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে এক চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও অস্থিরতা। ঠিক এইরকম এক বৈশ্বিক আবহে আমেরিকার কড়া অভিবাসী নীতি এবং শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লির সাথে ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত ঝুলে রয়েছে ইন্দো-মার্কিন বহুপ্রতিক্ষিত বাণিজ্য চুক্তিও। এই জটিল পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ও অভূতপূর্ব প্রশংসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

সম্পর্ক জোড়া লাগানোর ইঙ্গিত

ভারতে সফররত মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও রবিবার দিল্লিতে আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণার ২৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেই অনুষ্ঠান চলাকালীনই সুদূর আমেরিকা থেকে ভিডিওকলের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনুষ্ঠান মঞ্চের জায়েন্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠে ট্রাম্প দিল্লির মঞ্চে উপস্থিত সকলকে অভিবাদন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি তাঁর গভীর বন্ধুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। লাইভ ফোনকলে ট্রাম্প সরাসরি ঘোষণা করেন, “ভারত যা চাইবে, তাই পাবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমি ভালোবাসি। আমি ওঁর সব থেকে বড় ভক্ত।” মোদিকে একজন ‘মহান ব্যক্তি’ ও নিজের ভালো বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক এর আগে কখনও এতটা কাছাকাছি আসেনি।

কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ট্রাম্পের এই দরাজ বার্তার মূল কারণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ম্লান হওয়া দিল্লি-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পুনরায় চাঙ্গা করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারত তাঁর দেশ এবং তাঁর ওপর একশ শতাংশ ভরসা রাখতে পারে। যেকোনো প্রয়োজনে আমেরিকা ভারতের পাশে থাকবে। আমেরিকার বর্তমান শক্তিশালী অর্থনীতি ও রেকর্ড ছোঁয়া শেয়ার বাজারের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্পের এই জোরালো আশ্বাস দুই দেশের ঝুলে থাকা বাণিজ্য চুক্তিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। পাশাপাশি, হোয়াইট হাউসে নরেন্দ্র মোদিকে মার্কিন বিদেশসচিবের আমন্ত্রণ জানানোর পর ট্রাম্পের এই বক্তব্য আগামী দিনে ভারত-আমেরিকা কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *