ট্রাম্পের প্রস্তাব খারিজ করে ৭৮ বছরের অবস্থানেই অনড় পাকিস্তান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি প্রস্তাব সত্ত্বেও ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম চুক্তি’তে যোগ দিচ্ছে না পাকিস্তান। ইজ়রায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এই আহ্বান স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ। সম্প্রতি পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ সে দেশের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘ ৭৮ বছর ধরে ইজ়রায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার যে নীতি পাকিস্তান বজায় রেখেছে, তা থেকে কোনো অবস্থাতেই বিচ্যুত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির নীতিনির্ধারকেরা।
আদর্শিক আপস ও অভ্যন্তরীণ চাপ
আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ না দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে পাকিস্তান তার দীর্ঘদিনের মৌলিক আদর্শিক অবস্থানকে সামনে এনেছে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তান স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে সোচ্চার এবং আজ পর্যন্ত ইজ়রায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে সই করার অর্থ হবে নিজেদের মূল নীতি ও আদর্শের সঙ্গে আপস করা, যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এছাড়া, ইজ়রায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অসন্তোষ তৈরি হবে। দেশের ভেতরের শক্তিশালী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর চরম বিরোধিতার মুখে পড়ার আশঙ্কায় পাক সরকার এই মুহূর্তে কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে রাজি নয়।
কূটনৈতিক অস্বস্তি ও ক্ষমতার সমীকরণ
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে চাওয়া পাকিস্তানের জন্য ট্রাম্পের এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া বেশ অস্বস্তিকর। তবে এই অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক কৌশল। আব্রাহাম চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফকে এড়িয়ে সরাসরি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নাম উল্লেখ করে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আচরণ পাকিস্তানের বেসামরিক সরকারের চেয়ে সেনাবাহিনীর হাতেই যে দেশটির মূল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে—সেই বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। সব মিলিয়ে, একদিকে ট্রাম্পের চাপ এবং অন্যদিকে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় নীতি ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের মুখে পড়ে তীব্র এক আন্তর্জাতিক উভয়সঙ্কটে পড়েছে ইসলামাবাদ।