অনুপ্রবেশে বদলে যাচ্ছে দেশের জনসংখ্যার ছবি, বড় সিদ্ধান্ত নিল শাহের মন্ত্রক

অনুপ্রবেশে বদলে যাচ্ছে দেশের জনসংখ্যার ছবি, বড় সিদ্ধান্ত নিল শাহের মন্ত্রক

গত কয়েক বছর ধরে দেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে অনুপ্রবেশ এবং তার জেরে জনবিন্যাসের অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল কেন্দ্র। বিশেষ করে বাংলাদেশ লাগোয়া পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে এই প্রবণতা সবথেকে বেশি বলে অভিযোগ উঠছিল। এবার এই অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে দেশ জুড়ে জনবিন্যাসগত চরিত্রের পরিবর্তনের প্রভাব খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সমাজমাধ্যমে এই বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নওলেকরকে এই কমিটির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয়েছে।

কমিটির গঠন ও কার্যপরিধি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তৈরি এই উচ্চস্তরীয় কমিটিতে দেশের একাধিক শীর্ষ স্তরের বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন আমলাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দেশের বর্তমান জনগণনা কমিশনার, প্রাক্তন আইএএস কর্মকর্তা দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তা বালাজি শ্রীবাস্তব এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ শমিকা রবি। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (বিদেশি-১) এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি মূলত অবৈধ অভিবাসন এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণের ফলে সমগ্র ভারতে ঘটে চলা জনবিন্যাসের চরিত্র পরিবর্তনের একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক জনগোষ্ঠীর অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের চরিত্র বিশ্লেষণ করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমাধানের সুপরিকল্পিত রূপরেখা পেশ করবে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক কাঠামোয় প্রভাব

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এই জনবিন্যাসের পরিবর্তন দেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ উভয়ের জন্যই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল চ্যালেঞ্জ। এই বিষয়টি দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক কাঠামো এবং আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্য সংরক্ষণের মতো গভীর বিষয়গুলির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। গত বছর দেশের স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার ঐতিহাসিক বক্তৃতাতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনুপ্রবেশ এবং এর ফলে সৃষ্ট জনবিন্যাস বদলের প্রসঙ্গটি তুলে ধরেছিলেন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, এই কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া আইনি পদক্ষেপ এবং অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা নীতির ক্ষেত্রে বড়সড় ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *