তীব্র গরমে করিনা কাপুর খানের ম্যাজিক দাওয়াই, শরীর ঠান্ডা রাখতে পুষ্টিবিদের ৩টি দেশি টোটকা

গ্রীষ্মের তীব্র দহন ও খরতাপে পুড়ছে চারপাশ। বেলা বাড়তেই আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে, যার ফলে এসি কিংবা কুলার চালিয়েও মিলছে না স্বস্তি। এই চরম আবহাওয়ায় শরীর সারাক্ষণ ক্লান্ত ও ম্যাড়মেড়ে হয়ে পড়ছে। কৃত্রিম উপায়ে সাময়িক আরাম মিললেও শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে বলিউড তারকা করিনা কাপুর খানের প্রিয় পুষ্টিবিদ রুজুতা দিওয়েকর গরমকে মাত দেওয়ার তিনটি অকৃত্রিম দেশি উপায়ের কথা জানিয়েছেন। মা-ঠাকুমাদের আমলের এই চেনা টোটকা মেনেই করিনা নিজেকে সতেজ ও ‘কুল’ রাখছেন, যা একই সঙ্গে ত্বকের জেল্লাও ফিরিয়ে আনে।
জলের পাত্রে বেনা ঘাস ও হাতে মেহেন্দি
তীব্র গরমে সাধারণ জল পানের একঘেয়েমি দূর করতে জলের পাত্রে বেনা ঘাস বা খসখসের শিকড় (ভেটিভার) ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ। মাটির কুঁজোর জলে দু-তিনটি খসখসের শিকড় ফেলে রাখলে তা জলে প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব আনে এবং শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে। এই জল ব্রণ বা খুসকির সমস্যায় অত্যন্ত উপকারী হলেও মাইগ্রেনের রোগীদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত। এর পাশাপাশি, শরীর থেকে অতিরিক্ত তাপ শুষে নিতে হাতে প্রাকৃতিক মেহেন্দি বা হেনা লাগানোর কথা বলা হয়েছে। মেহেন্দির নিজস্ব ঔষধি গুণ শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি এর হালকা সুবাস মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
ঘোলের জাদুতে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য
গরমের দিনে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে অন্যতম সেরা দাওয়াই হলো ঘোল বা ছাঁচ। পুষ্টিবিদের মতে, তীব্র গরমে দিনে অন্তত দু-তিন বার ঘোল খাওয়া উচিত। ঘোলের ছানাকাটা জলে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালশিয়াম এবং ভিটামিন বি-১২ থাকে, যা প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। অতিরিক্ত গরমে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের যে ভারসাম্য নষ্ট হয়, সামান্য নুন, হিং ও জিরে গুঁড়ো মেশানো ঘোল তা নিমেষেই পুনরুদ্ধার করে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, পেট হালকা রাখে এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হয় এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে ক্লান্তি ও হজমের সমস্যা দেখা দেয়। কৃত্রিম পানীয় বা ঠান্ডা জল সাময়িক আরাম দিলেও তা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখতে পারে না। পুষ্টিবিদের নির্দেশিত এই প্রাকৃতিক ও দেশি উপাদানগুলো নিয়মিত গ্রহণ করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে, ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমবে এবং তীব্র গরমেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।