খাতা বদলের চরম গাফিলতি, ১৫ দিন পর সিবিএসই দুর্নীতির দায় নিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী!

সিবিএসই দ্বাদশের ফল প্রকাশের পর থেকেই মূল্যায়নের বড়সড় গলদ ও অনিয়ম নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ দিন নীরব থাকার পর অবশেষে এই ‘দুর্নীতি’র দায় স্বীকার করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পরীক্ষা ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া এই নজিরবিহীন জটিলতা ও বিতর্কের মাঝে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, সব দ্রুত ঠিক করে দেওয়া হবে এবং এই সমস্যার উপযুক্ত সমাধান খুঁজে বের করা হবে।
বেদান্তের খাতা বদল ও সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ
গত ১৩ মে সিবিএসই দ্বাদশের ফল প্রকাশের পর থেকেই মূল্যায়নের যথার্থতা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। ঘটনার সূত্রপাত বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে এক পড়ুয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পদার্থবিদ্যায় আশাতীত কম নম্বর পাওয়ায় সে বোর্ডের কাছে নিজের উত্তরপত্রের প্রতিলিপি দেখতে চায়। কিন্তু বোর্ড থেকে পাঠানো উত্তরপত্রটি হাতে পেয়ে সে স্তম্ভিত হয়ে যায়। হাতের লেখা দেখেই বেদান্ত বুঝতে পারে, ওটি আসলে অন্য কোনো পরীক্ষার্থীর খাতা, যা তার নামে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমাজমাধ্যমে নিজের আসল খাতার খোঁজ চেয়ে বেদান্ত ক্ষোভ উগরে দিলে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
রাজনৈতিক তরজা ও শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা
শিক্ষা ব্যবস্থার এই চরম গাফিলতি সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে। মূল্যায়নের এই অনিয়ম নিয়ে সর্বভারতীয় বোর্ড এবং কেন্দ্রের সমালোচনা করে তোপ দেগেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। দেশজুড়ে বাড়তে থাকা এই ক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, এই ঘটনার সমস্ত দায় তিনি নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো রকম অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
অন-স্ক্রিন মার্কিং এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব
বোর্ডের এই খাতা বদলের ঘটনার ফলে লাখ লাখ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ এবং সিবিএসই-র মতো সর্বভারতীয় বোর্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়েছে। তবে এই বিতর্কের মধ্যেও শিক্ষামন্ত্রী বোর্ডের অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম বা ওএসএম-এর পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর মতে, এটি একটি প্রগতিশীল ও বিশ্বমানের পদক্ষেপ, যা শিক্ষার্থীদের উপকারের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর এই দায়স্বীকারের পর এখন দেখার, বোর্ড কীভাবে এই প্রযুক্তিগত বা মানবিক ভুলের দ্রুত সমাধান করে ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের সঠিক বিচার নিশ্চিত করে।