কেরিয়ারের শুরুতেই মা হওয়ায় সুস্মিতাকে ছাড়লেন ম্যানেজার, বলিউডসুন্দরীর অতীতের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে

মাত্র ২৪ বছর বয়সে প্রথম সন্তানকে দত্তক নিয়ে কেরিয়ারের চরম ঝুঁকিপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রাক্তন ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরী সুস্মিতা সেন। তিন দশকের বেশি সময় পার করে আজ তিনি বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী হলেও, সেই সময় এই একক মাতৃত্বের সিদ্ধান্তের কারণে তাঁকে এক ভয়ংকর ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই কঠিন লড়াই ও অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন এই বঙ্গতনয়া।
১৯৯৪ সালে ‘মিস ইউনিভার্স’ খেতাব জয়ের পর ১৯৯৬ সালে ‘দস্তক’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন সুস্মিতা। যখন তাঁর কেরিয়ার মধ্যগগনে, ঠিক তখনই অর্থাৎ ২০০০০ সালে তিনি বড় মেয়ে রেনেকে দত্তক নেওয়ার সাহসী পদক্ষেপ করেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি তাঁর তৎকালীন ম্যানেজার। সুস্মিতার কথায়, সন্তান দত্তক নেওয়ার পরই তাঁর ম্যানেজার কাজ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং সাফ জানিয়ে দেন যে, ২৪ বছরের একজন মাকে রিপ্রেজেন্ট করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। একই সঙ্গে সুস্মিতার কেরিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো কাজ না পাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তৎকালীন সমাজের ও ইন্ডাস্ট্রির একাংশও একজন অবিবাহিত তরুণীর মা হওয়ার এই সিদ্ধান্তকে সহজভাবে নেয়নি।
দৃঢ়তা ও সাফল্যের জবাব
ম্যানেজারের চলে যাওয়া এবং চারপাশের নেতিবাচকতাকে পরোয়া না করেই নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন সুস্মিতা। কোনো গডফাদার ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বনির্ভর নারী হিসেবে নিজের নিয়মে বাঁচার লড়াই শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে এই কঠিন মানসিকতাই তাঁর কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনকে এক নতুন মাত্রা দেয়। রেনেকে দত্তক নেওয়ার পর ২০১০ সালে তিনি তাঁর ছোট মেয়ে আলিসাহকেও দত্তক নেন এবং একক মা হিসেবে দুই সন্তানকে সুন্দর শৈশব উপহার দেন।
চলচ্চিত্র দুনিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
ম্যানেজারের সেই নেতিবাচক ভবিষ্যৎবাণীকে ভুল প্রমাণিত করে মা হওয়ার পরেই সুস্মিতা তাঁর কেরিয়ারের সেরা হিট ছবিগুলো উপহার দেন। ‘ম্যায় হুঁ না’ বা ‘ম্যায়নে পেয়ার কিউঁ কিয়া’-র মতো বাণিজ্যিক সফল ছবির পাশাপাশি দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ২০২০ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘আর্যা’ সিরিজের মাধ্যমে কামব্যাক করেন তিনি, যা আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন পেয়েছিল। এছাড়া ‘তালি’ সিরিজে রূপান্তরকামী গৌরী সাওয়ান্তের চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। সুস্মিতার এই লড়াই কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং তা তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থা ও বিনোদন দুনিয়ার চেনা ছককে ভেঙে নারীদের স্বনির্ভরতা ও স্বাধীন সিদ্ধান্তের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।