তৃণমূলে বেনজির অন্তর্কলহ, সুশান্ত-অরূপের ইস্তফার পর কল্যাণ ও কাকলির তীব্র সংঘাত রাজ্য রাজনীতিতে

তৃণমূলে বেনজির অন্তর্কলহ, সুশান্ত-অরূপের ইস্তফার পর কল্যাণ ও কাকলির তীব্র সংঘাত রাজ্য রাজনীতিতে

রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ফাটল। একের পর এক জনপ্রতিনিধির পদত্যাগ, প্রকাশ্যে দলের নীতি ও শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা এবং দলের দুই প্রবীণ সাংসদের চরম কাজিয়ায় তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। পুর-স্তর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এবার দিল্লির সংসদ ভবন পর্যন্ত গড়িয়েছে, যা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

টানা ইস্তফা এবং আইপ্যাক বিতর্ক

কলকাতার বোরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ এবং পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটি ও দলের মুখপাত্রের পদ থেকে আর এক কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তীর ইস্তফা দেওয়ার ঘটনা দলের ভেতরের অসন্তোষকে প্রকাশ্যে এনেছে। এই জোড়া ইস্তফার পরই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। কল্যাণের দাবি, ২০১১ সালের পর যারা বড় নেতা হয়েছেন তাদের জন্য অভিষেকই দায়ী। একই সঙ্গে দলের পুরোনো ‘পর্যবেক্ষক’ প্রথা তুলে দিয়ে আইপ্যাক নিয়ে আসার ফলেই দলের আজ এই দশা হয়েছে বলে তিনি তোপ দাগেন।

কাকলি বনাম কল্যাণ এবং সংসদীয় সংঘাতের আবহ

দলের এই কোন্দল আরও চরম আকার ধারণ করেছে বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারস্পরিক দ্বন্দ্বে। লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণের কাঁধে দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষুব্ধ কাকলি দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন। এবার তিনি লোকসভার ভেতরে কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষী আচরণ ও কটূক্তির অভিযোগ এনে স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়েছেন।

এর পাল্টা জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করেছেন। কাকলির লোকসভায় উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি পুরোনো ‘নারদাকাণ্ড’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কাকলি ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিটও জমা পড়েছে। কাকলির সাংসদ পদ খারিজের দাবি তুলে কল্যাণ এবার স্পিকারের কাছে পাল্টা চিঠি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বের নীতি নিয়ে প্রবীণ নেতাদের এমন প্রকাশ্য সংঘাত এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক সংহতিকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *