হোল্ডিং সেন্টার নিয়ে শুভেন্দুর সরকারকে প্রশ্ন অধীরের, অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা নিয়ে শ্বেতপত্রের দাবি

হোল্ডিং সেন্টার নিয়ে শুভেন্দুর সরকারকে প্রশ্ন অধীরের, অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা নিয়ে শ্বেতপত্রের দাবি

পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবির চালু হওয়া মাত্রই তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যে কতজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে এবং কতজনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তা সুনির্দিষ্ট সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারের নীতিগত পদক্ষেপের অধিকারকে স্বীকার করেও স্বচ্ছতার স্বার্থে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি তুলেছেন তিনি।

হোল্ডিং সেন্টার বিতর্ক ও অধীরের প্রশ্ন

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য তিনটি জেলায় হোল্ডিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। মালদা সহ বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই আটক বাংলাদেশিদের সেখানে রাখা শুরু হয়েছে, যাদের দ্রুত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই প্রেক্ষাপটেই সুর চড়িয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সরকার হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করতেই পারে, কিন্তু সেখানে কতজন ‘ঘুসপেটিয়া’ বা অনুপ্রবেশকারী আটক রয়েছে এবং কতজনকে ডিপোর্ট করার প্রক্রিয়া চলছে, তা রাজ্য সরকারকে জনসমক্ষে জানাতে হবে। নিজের সংসদীয় অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে দেশের বেআইনি পাকিস্তানিদের সংখ্যা নিয়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবানির কাছেও তিনি একইভাবে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলেন।

অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপ ও তার প্রভাব

২০২৫ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দেওয়া নির্দেশিকা কার্যকর করতেই রাজ্য সরকারের এই নতুন বিজ্ঞপ্তি ও পদক্ষেপ। এই ব্যবস্থার ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্ত সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অবৈধভাবে বসবাসকারীদের লম্বা লাইন তারই প্রমাণ দিচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হওয়া মাত্রই নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁদের এই হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে। তবে এই প্রশাসনিক তৎপরতার সমান্তরালে কতজন প্রকৃত অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হলো, তা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন এবং শ্বেতপত্রের দাবি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ ইস্যুটিকে আরও বেশি সংবেদনশীল করে তুলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *