উত্তরপ্রদেশে ফের এনকাউন্টার, নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডে পুলিশের গুলিতে ধরাশায়ী মূল অভিযুক্ত সিরাজ

উত্তরপ্রদেশে ফের এনকাউন্টার, নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডে পুলিশের গুলিতে ধরাশায়ী মূল অভিযুক্ত সিরাজ

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ফের পুলিশের এনকাউন্টারে ধরাশায়ী হলো এক অপরাধী। এবার নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত সিরাজ নামে এক যুবককে পায়ে গুলি করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গুরুতর জখম অবস্থায় অভিযুক্তকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যোগীরাজ্যে অপরাধ দমনে পুলিশের কড়া অবস্থান নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

গত ৩০ মে গাজিয়াবাদের লোনি বর্ডার থানায় এক মহিলা তাঁর ১৩ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জানানো হয়, তিন মাস আগে এলাকারই যুবক সিরাজ ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে খুনের হুমকি দেয়। ভয়ে নাবালিকা চুপ থাকলেও সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তখনই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর পরিবারের চাপে পড়ে সব কথা স্বীকার করে নির্যাতিতা। ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জর নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সাহায্যের আশ্বাস দেন এবং পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে।

এনকাউন্টার ও পুলিশের পাল্টা গুলি

রবিবার রাতে সেবাধাম টিলা মোড় রোডে পুলিশি টহল চলাকালীন স্কুটারে চেপে পালাচ্ছিল অভিযুক্ত সিরাজ। পুলিশ তাকে থামানোর চেষ্টা করলে সে স্কুটার ঘুরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে এগিয়ে গেলে সিরাজ পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও, যা সিরাজের পায়ে লাগে। জখম অভিযুক্তকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে পস্কো (POCSO) এবং অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

গাজিয়াবাদে পর পর এনকাউন্টারের ঘটনায় স্পষ্ট যে, যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনড়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে খুনের অভিযোগে আসাদ নামে এক দুষ্কৃতীও পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হয়েছিল। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ স্থানীয় স্তরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে একই সঙ্গে এই ধরনের লাগাতার এনকাউন্টার বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে তাৎক্ষণিক শাস্তির এক নতুন প্রবণতাকে উস্কে দিচ্ছে, যা আগামী দিনে অপরাধীদের মনে তীব্র ভীতি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *