বিশ্বাসঘাতকদের জন্য ক্ষমা নেই, বহিষ্কৃত ঋতব্রত-সন্দীপনদের কড়া বার্তা দিয়ে ‘বড় খেলোয়াড়’ মমতা!

বিশ্বাসঘাতকদের জন্য ক্ষমা নেই, বহিষ্কৃত ঋতব্রত-সন্দীপনদের কড়া বার্তা দিয়ে ‘বড় খেলোয়াড়’ মমতা!

দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং দল ত্যাগের পর প্রকাশ্যে কুৎসা রটানোর বিরুদ্ধে এবার রণংদেহী মেজাজে অবতীর্ণ হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা দলের বিরুদ্ধে সরব হতেই সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দলনেত্রী। সরাসরি নাম না করে তিনি যেমন বিশ্বাসঘাতকতার কড়া জবাব দিয়েছেন, তেমনই নিজের রাজনৈতিক দক্ষতা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, “আমি বড় খেলোয়াড়।” তাঁর এই মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক মহলে এক নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

ভয় না পেয়ে বীরের মতো লড়াইয়ের বার্তা

সোমবার দীর্ঘ ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনৈতিক চাপ ও সাম্প্রতিক কোন্দল নিয়ে নিজের অনড় অবস্থান স্পষ্ট করেন। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কোনও পরিস্থিতিতেই তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ভয় দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে মানুষের অবস্থান বদলানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে সেই চাপের মুখে মাথা নত না করার আহ্বান জানিয়ে নেত্রীর বার্তা, ভয়কে প্রশ্রয় দিলে ৩৬৫ দিনই ভয় পেতে হবে, কিন্তু বীরের মতো লড়াই করলে বড়জোর এক মাস জেলে থাকতে হবে, তারপর আপনি মুক্ত পাখি। মানুষের ভোটে জিতে যারা আজ ভোটারদের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করছেন, ভোটাররাই তাঁদের শেষ বিচার করবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

অতীতের ভুল স্বীকার ও সিপিএমের প্রশংসা

বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের দলের অতীত ভুলের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “ও আগে সিপিএম করত। আমাদেরই ভুল হয়েছে ওঁকে টিকিট দেওয়া। আসলে পায়ে এসে পড়েছিল।” এই প্রসঙ্গে অতীতের কথা টেনে তিনি আরও বলেন, “সেদিন সিপিএম ঠিক করেছিল, অত্যন্ত এই একটি ক্ষেত্রে তাঁদের প্রশংসা করি।” দল যে তাঁকে দু’বার সাংসদ করেছে এবং অন্য যোগ্য প্রার্থীর টিকিট কেটে হাওড়ায় দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা স্পষ্ট জানান, এই চরম আস্থার প্রতিদান যারা বিশ্বাসঘাতকতা দিয়ে দিল, তাদের জন্য কোনও ক্ষমা নেই। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যের জন্য টিকিট না পেয়ে দলের বিরোধিতা করা এক সাংসদকেও তিনি রেয়াত করেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিকে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তৃণমূলের অন্দরে ও রাজ্য রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঝাঁঝালো বক্তব্য ও কড়া মনোভাবের পেছনে মূল কারণ হলো দলের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দলবদলু ও বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা দেওয়া। সামনে বড় রাজনৈতিক লড়াই, তাই দলের অন্দরে থাকা অসন্তুষ্ট ও দলত্যাগীদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি না দেখালে দলের রাশ আলগা হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই নেত্রী নিজে ময়দানে নেমেছেন। এই বার্তার ফলে একদিকে যেমন দলের সাধারণ কর্মীদের মনোবল বাড়বে এবং ভয় কেটে যাবে, অন্যদিকে তেমনই অন্য কোনও নেতা দল ছাড়ার আগে বা দলের বিরোধিতা করার আগে দুবার ভাববেন। দলনেত্রীর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাকে যেমন মজবুত করবে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধীদের চাপ মোকাবিলায় দলকে আরও আগ্রাসী করে তুলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *