সকালে উঠেই হাতের তালু ঘষার ম্যাজিক, এক অভ্যাসেই ফিরবে শরীরের চনমনে ভাব!

সকালে উঠেই হাতের তালু ঘষার ম্যাজিক, এক অভ্যাসেই ফিরবে শরীরের চনমনে ভাব!

ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের প্রথম কাজটিই সারাদিনের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ভিত তৈরি করে দেয়। বর্তমানের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় চোখ খুলেই মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে তাকানোর অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সহজ অভ্যাসের কথা বলছে। প্রতিদিন সকালে বিছানা ছাড়ার আগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড দুই হাতের তালু একসঙ্গে ঘষার অভ্যাস শরীরে এনে দিতে পারে অবিশ্বাস্য পরিবর্তন।

স্নায়ুর জাগরণ ও রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি

আমাদের হাতের তালুতে শরীরের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুপ্রান্ত যুক্ত থাকে। ঘুম থেকে ওঠার পর যখন দুই হাত একসঙ্গে রেখে ঘর্ষণ তৈরি করা হয়, তখন সেখানে এক ধরণের প্রাকৃতিক তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপ শরীরের সুপ্ত স্নায়ুগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে সজাগ করে তোলে। ফলে সকালের অলসতা বা ঘুম-ঘুম ভাব কেটে গিয়ে শরীর দ্রুত চনমনে হয়ে ওঠে। একই সাথে এই উদ্দীপনা হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতাকে সচল করতে সাহায্য করে, যা পুরো শরীরে রক্ত সঞ্চালনের প্রক্রিয়াকে মসৃণ করে তোলে। বিশেষ করে যাঁদের সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পেশিতে টান বা হাত-পায়ে আড়ষ্টতা তৈরি হয়, এই অভ্যাসে তাঁদের শারীরিক অস্বস্তি দ্রুত কেটে যায়।

চোখের ক্লান্তি দূর ও মস্তিষ্কের সচলতা

দুই হাতের তালু ঘষে নেওয়ার পর তৈরি হওয়া মৃদু উষ্ণতা যখন বন্ধ চোখের ওপর রাখা হয়, তখন তা চোখের চারপাশের ক্লান্ত পেশিগুলোকে দ্রুত শিথিল করে। আধুনিক যুগে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে তৈরি হওয়া চোখের শুষ্ক ভাব দূর করতে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এই ওম অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া, হাতের তালুর সাথে মস্তিষ্কের সরাসরি যোগসূত্র থাকায় এই ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন সংকেত দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছায়। এটি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে সারাদিনের কাজের মনোযোগ ও কর্মস্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যগত দিক থেকেও এই অভ্যাসটিকে ইতিবাচক শক্তির বিকাশ এবং সারাদিনের মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখার একটি দারুণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *