বিপর্যয়ের দিনে বদলে গেল সুর, রাহুলের পাশেই শেষমেশ আশ্রয় খুঁজছেন অভিষেক

বিপর্যয়ের দিনে বদলে গেল সুর, রাহুলের পাশেই শেষমেশ আশ্রয় খুঁজছেন অভিষেক

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন চরম জনরোষের মুখে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরে জনসংযোগে গিয়ে নজিরবিহীন আক্রমণের শিকার হয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষুব্ধ জনতার ডিম ছুড়ে মারা থেকে শুরু করে জামা ছিঁড়ে দেওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতিতে হেলমেট পরে আত্মরক্ষা করতে হয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে রাজ্যের নিজস্ব দলের নেতাদের বড় অংশের নিষ্ক্রিয়তার বিপরীতে জাতীয় স্তরের ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের সক্রিয়তা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে, অতীতে যাকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েননি, সেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর প্রতি অভিষেকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

অহংকার থেকে সমঝোতার রাজনীতি

লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে যখন রাহুল গান্ধী সরব হয়েছিলেন, তখন তৃণমূলের অবস্থান ছিল ভিন্ন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সে সময় দাবি করেছিলেন যে, কংগ্রেস বা আম আদমি পার্টির মতো দলগুলি এই কারচুপি ধরতেই পারেনি, যা তৃণমূল আগে ধরেছে। আঞ্চলিক স্তরে একচ্ছত্র আধিপত্য এবং অতি-আত্মবিশ্বাসের কারণে জোটের বাকি শরিকদের প্রতি একপ্রকার কর্তৃত্বমূলক ও আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আসন রফায় অনড় থাকা থেকে শুরু করে ইন্ডিয়া জোটের স্টিয়ারিং নিজের হাতে রাখার মরিয়া চেষ্টা ছিল তাদের। কিন্তু বাংলায় দলের নির্বাচনী ভরাডুবির পর সেই চেনা দাপট এখন অতীত।

জাতীয় স্তরে নতুন রসায়ন ও সম্ভাব্য প্রভাব

সোনারপুরের ঘটনার পর তৃণমূলের অন্দরে যখন এক প্রকার নীরবতা, তখন স্বয়ং রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, অখিলেশ যাদব এবং অরবিন্দ কেজরীবাল ফোন করে অভিষেকের খোঁজ নিয়েছেন। এই সৌজন্যের পরেই সমাজমাধ্যমে সুর বদলে রাহুল গান্ধীকে ‘জি’ সম্বোধন করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিষেক। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংবিধান রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তাও দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর জাতীয় স্তরে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এখন ইন্ডিয়া জোটের ছাতার তলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে তৃণমূল। যে রাহুল গান্ধীকে একসময় ‘ফুটো নৌকা’র সওয়ারি ভাবা হয়েছিল, আজ বিজেপির রাজনৈতিক চাপের মুখে সেই রাহুলের নেতৃত্বকেই কার্যত মেনে নিতে হচ্ছে অভিষেককে, যা জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের দর কষাকষির ক্ষমতা অনেকটাই কমিয়ে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *