স্ত্রীর ওপর নৃশংস অত্যাচার, গ্রেফতার নামী চিকিৎসক

স্ত্রীর ওপর নৃশংস অত্যাচার, গ্রেফতার নামী চিকিৎসক

নরেন্দ্রপুরে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীকে দীর্ঘ চার বছর ধরে নৃশংস শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং শেষে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ সামনে এসেছে। পেশায় সমাজসেবী ও চিকিৎসক হয়েও কীভাবে একজন মানুষ নিজের জীবনসঙ্গিনীর ওপর এমন অমানবিক অত্যাচার চালাতে পারেন, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতিতা স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত চিকিৎসক কৌশিক মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও লালসার বলি

নির্যাতিতা সহেলী সরকারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্বামী অন্য এক মহিলার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। এই পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকে। শুধু মারধরই নয়, পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীকে দিনের পর দিন নানা ধরনের ভুল ওষুধ খাইয়ে অসুস্থ ও অবশ করে রাখার চেষ্টাও করা হতো। একই সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির অর্থ ও সম্পত্তির ওপর লোভ থাকায় বিভিন্ন সময়ে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য প্রবল মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। তাঁদের একটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।

সামাজিক প্রভাব ও পুলিশি পদক্ষেপ

এই ঘটনার পর থেকে নির্যাতিতা নারী ও তাঁর পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নরেন্দ্রপুর থানা ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেফতার করে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করেছে। এই ঘটনাটি চিকিৎসা পেশার মতো একটি মহান বৃত্তির গায়ে যেমন কলঙ্ক লেপে দিয়েছে, তেমনই পারিবারিক হিংসা ও নারী সুরক্ষার বিষয়টিকে আবারও বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ এখন জানার চেষ্টা করছে যে এই অপরাধে পরিবারের অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *