তৃণমূলে মহাবিদ্রোহের মেঘ, ৫০ বিধায়ককে নিয়ে ‘প্রকৃত তৃণমূল’ গড়ার ছকে ঋতব্রতরা!

তৃণমূলে মহাবিদ্রোহের মেঘ, ৫০ বিধায়ককে নিয়ে ‘প্রকৃত তৃণমূল’ গড়ার ছকে ঋতব্রতরা!

উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের পর তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি চরম আকার ধারণ করেছে। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এবার পাল্টা ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন বিক্ষুব্ধরা। সোমবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কলকাতার একাধিক গোপন ও প্রকাশ্য বৈঠকে শিউলি সাহা এবং কসবার জাভেদ খানের মতো হেভিওয়েট বিধায়কদের উপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তুষ্ট একদল বিধায়ক এবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, প্রায় ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে মঙ্গলবারই বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দেওয়া হতে পারে। যেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতা দাবি করে নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

গোপন বৈঠক ও দল ভাঙার নেপথ্য কারণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নজিরবিহীন সংকটের মূলে রয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের প্রতি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। সোমবার প্রথমে বাইপাস সংলগ্ন একটি জায়গায় এবং পরে সন্ধ্যায় এমএলএ হস্টেলের একটি ঘরে দফায় দফায় আলোচনা চলে। সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের কয়েকজন বিধায়ক-সহ মোট ১৫ থেকে ১৬ জন জনপ্রতিনিধি সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।

দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। উলুবেড়িয়া পুরসভায় বিপুল আর্থিক অনিয়মের দাবি তুলে তিনি তদন্তের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আগে প্রাণের ভয়ে মুখ খুলতে না পারলেও, এখন আর কোনো বাধা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ঋতব্রত। অন্যদিকে, এমএলএ হস্টেল থেকে বেরিয়ে বিধায়ক শিউলি সাহা বৈঠক নিয়ে ধোঁয়াশা রাখলেও তাঁর একটি মন্তব্য জল্পনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “বিধায়ক বহিষ্কৃত নয়, দল থেকে বহিষ্কৃত।” শিউলির এই মন্তব্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দল থেকে বের করে দিলেও বিধায়ক পদ হাতছাড়া না করে বিধানসভার ভেতরেই পাল্টা গোষ্ঠী তৈরির আইনি রাস্তা খুঁজছেন বিক্ষুব্ধরা।

রাজ্য রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

এই আকস্মিক বিদ্রোহের ফলে শাসক দল তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদি সত্যিই ৫০ জন বিধায়ক স্পিকারের কাছে পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানান, তবে বিধানসভায় শাসক দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকলেও দলের ভাবমূর্তি মারাত্মক সংকটে পড়বে।

পাশাপাশি, দলত্যাগের আইনি জটিলতা বা দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টাও চলছে পর্দার আড়ালে। জেলা স্তরের বিধায়কদের এই বিদ্রোহ যদি সফল হয়, তবে আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক রাশ আলগা হতে পারে এবং বিরোধী শিবিরগুলিও বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবে। সব মিলিয়ে, ঋতব্রত-সন্দীপনদের এই পাল্টা চাল রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *