ক্ষমতার দাপট শেষ, কোমরে দড়ি পড়ে রাস্তায় হাঁটলেন বনগাঁর ‘ত্রাস’ তৃণমূল কাউন্সিলর পাপাই রাহা

উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত শহর বনগাঁয় এক সময়ের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর পাপাই রাহার গ্রেপ্তারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন বনগাঁ পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই বিতর্কিত জনপ্রতিনিধি। বুধবার সকালে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাঁকে কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটিয়ে আদালতে নিয়ে যায়, যা দেখতে এলাকায় ভিড় জমে যায়।
অভিযোগের পাহাড় ও ক্ষমতার অপব্যবহার
দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষকে ভীতি প্রদর্শনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে পাপাই রাহার বিরুদ্ধে। দলীয় ছত্রছায়ায় থেকে তিনি বেআইনি অস্ত্র মজুত, মাদক পাচার, তোলাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার মতো অপরাধমূলক সিন্ডিকেট চালাতেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে স্থানীয় বিজেপি প্রার্থী তথা বর্তমান রাজ্য সরকারের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া এবং বিজেপি কর্মীদের মারধরের ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়ায়। তাঁর এই লাগামহীন কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
রাজনৈতিক পালাবদল ও পুলিশের কঠোর অবস্থান
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই পুলিশ প্রশাসন অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। পূর্ববর্তী সরকারের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক ও প্রভাবশালী নেতা যখন বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার হচ্ছেন, ঠিক তখনই বনগাঁর এই কুখ্যাত কাউন্সিলরকে আইনের আওতায় আনা হলো। আজ সকালে গ্রেপ্তারের পর বনগাঁ পুরসভা থেকে আদালত পর্যন্ত তাঁকে যেভাবে কোমরে দড়ি পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসন সাধারণ মানুষের মনে যেমন আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছে, তেমনই অপরাধীদের জন্য একটি কড়া বার্তাও দিতে চাইছে। এই গ্রেপ্তারির ফলে বনগাঁ ও সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলের অপরাধমূলক সিন্ডিকেটগুলোর ওপর বড়সড় ধাক্কা লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।