সদলবলে কংগ্রেসে যোগ দেবেন মমতা? হাইভোল্টেজ বৈঠকের ডাকে দিল্লিতে চূড়ান্ত জল্পনা!

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজনীতির অন্দরমহলে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্দিরা ভবনে কংগ্রেস হাইকমান্ডের ডাকা জরুরি তলব ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে। সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠকের পরেই কংগ্রেসের এই জরুরি বৈঠক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কী ঘটতে চলেছে দিল্লিতে? সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়া অথবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সদলবলে পুরনো দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় স্তরে সহ-সভাপতি বা সমমানের কোনো বড় পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের কথা ভাবা হচ্ছে।
কেন এই জল্পনা? ১. জরুরি তলব: মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিসে বৃহস্পতিবার দেশের সব রাজ্যের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের দিল্লিতে তলব করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। ২. ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি: ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীর পাশের চেয়ারেই মমতার অবস্থান এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর ও অভিষেকের ঘনঘন বৈঠক এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। ৩. বিরোধী জোটের সমীকরণ: ইন্ডিয়া জোট থেকে আপ-এর দূরত্ব তৈরি এবং সিপিএম ও ডিএমকে-র সঙ্গে কংগ্রেসের বর্তমান টানাপোড়েনের আবহে বিরোধী শিবিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা এখন তুঙ্গে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট একদা কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস গড়েছিলেন মমতা। সময়ের চাকা ঘুরে আজ যখন বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে কংগ্রেস কোণঠাসা, তখন মমতাকে কাছে টেনে নিয়ে নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের পথে হাঁটছে কি গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি? নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ফের জাতীয় রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে কংগ্রেস—সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। বৃহস্পতিবারের এই মেগা বৈঠকই কি তবে সব ধোঁয়াশা দূর করবে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এখন দিল্লির দিকেই।