বিদায়ী মঞ্চে টিম কুকের বড় চমক, অ্যাপল নিয়ে এলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুপার স্মার্ট সিরি

প্রযুক্তিবিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বার্ষিক আয়োজন ‘ডব্লিউডব্লিউডিসি ২০২৬’ (WWDC 2026) মঞ্চে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করা অ্যাপলের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’ (Siri) দীর্ঘদিনের সমালোচনা কাটিয়ে এবার সম্পূর্ণ নতুন এবং শক্তিশালী এআই (AI) সংস্করণে আত্মপ্রকাশ করল। বহু প্রতীক্ষিত এই আপডেটের মাধ্যমে সিরি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট, দ্রুত ও কার্যকর। ২০১১ সাল থেকে টানা দেড় দশক ধরে অ্যাপলের শীর্ষ পদে থাকা টিম কুকের সিইও হিসেবে এটিই শেষ ডব্লিউডব্লিউডিসি অনুষ্ঠান। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তিনি এই পদ ছেড়ে জন টার্নাসকে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। বিদায়ের আগে তাঁর এই মেগা ঘোষণা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সুপার স্মার্ট সিরি ও নতুন এআই ফিচারের কার্যকারিতা
নতুন সংস্করণের সিরি এখন মানুষের ভাষা এবং কথোপকথন আরও সহজভাবে বুঝতে ও তা বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। বিভিন্ন অ্যাপ এবং ডিভাইসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এটি ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজকে চোখের পলকে সম্পন্ন করতে পারবে। এই আপডেটের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো গুগল লেন্সের মতো কার্যকারিতা। এখন আইফোনের ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সিরি যেকোনো খাবার, পণ্য বা অপরিচিত জিনিস চিনে নিয়ে সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য দিতে পারবে। এছাড়া কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য মেনু তৈরি করা, রেসিপি খোঁজা, মেসেজ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করা কিংবা বন্ধুদের আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর মতো জটিল কাজগুলোও এখন সিরি অনায়াসে করবে। একই সঙ্গে অ্যাপল তাদের ছবি এডিটিং এআই টুলের আধুনিকীকরণ করেছে, যার মাধ্যমে ছবি তোলার পরও ফ্রেম পরিবর্তন করে সেটিকে আরও আকর্ষণীয় করে সাজানো সম্ভব হবে।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও বিশ্ব বাজারে এআই প্রতিযোগিতার প্রভাব
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা চললেও অ্যাপল তাদের এই নতুন প্রযুক্তির মূল শক্তি হিসেবে দেখিয়েছে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’ সুরক্ষাকে। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে ডেটা প্রসেসিংয়ের বেশিরভাগ কাজ ক্লাউড সার্ভারের পরিবর্তে সরাসরি ডিভাইসের ভেতরেই (On-Device) সম্পন্ন করা হবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, টিম কুকের এই শেষ মাস্টারস্ট্রোক অ্যাপলকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় গুগলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে দেবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের তথ্যের কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই কৌশল আগামী দিনে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপলের একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখতে বড় প্রভাব ফেলবে।