ইরানে কি হামলা না করতে বলেছিলেন ট্রাম্প? যুদ্ধের আবহে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ইরানের বিরুদ্ধে হামলা নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটালেন ট্রাম্প!
ইরানের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর বিষয়ে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে বারণ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইজ়রায়েলকে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ থেকে তিনি বিরত থাকতে বলেননি, বরং যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাতের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সংঘাত প্রশমনে ট্রাম্পের বার্তা
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যা সঠিক মনে হয় ইজ়রায়েল যেন ঠিক সেটাই করে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য হলো যত দ্রুত সম্ভব এই রণকৌশলগত উত্তজনা থামানো। ট্রাম্পের মতে, লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখতে ইরান ও ইজ়রায়েলের মধ্যে চলমান এই বৈরিতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। ইজ়রায়েলি ভূখণ্ডে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন এক সময় এই মন্তব্য করলেন যখন উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
পারমাণবিক চুক্তির সম্ভাবনা ও ভূ-রাজনীতি
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক আলোচনা নিয়েও আশার কথা শুনিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক বার্তার পাশাপাশি ট্রাম্পের কণ্ঠে হুঁশিয়ারিও ছিল স্পষ্ট। তিনি জানান, আমেরিকা চাইলে অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের অস্তিত্ব সংকটে ফেলতে সক্ষম, কিন্তু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানই এখন তার অগ্রাধিকার। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থান—সামরিক শক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা এবং একই সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখা—মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই আহ্বানে ইরান ও ইজ়রায়েল নিজেদের সামরিক কৌশল কতটা নমনীয় করে।