‘আমি নাকি অফিস, তোমার কাছে কে বেশি দামী?’ ৭ বছরের ছেলের প্রশ্নে স্তব্ধ কর্পোরেট মা! আবেগঘন ভিডিও ভাইরাল

‘আমি নাকি অফিস, তোমার কাছে কে বেশি দামী?’ ৭ বছরের ছেলের প্রশ্নে স্তব্ধ কর্পোরেট মা! আবেগঘন ভিডিও ভাইরাল

হায়দরাবাদ: “মা, তোমার কাছে সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট কে? আমি, নাকি তোমার অফিস?”— ৭ বছরের একরত্তির এই একটা ছোট্ট প্রশ্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় নাড়িয়ে দিয়েছে লাখ লাখ মানুষের মন। কর্পোরেট দুনিয়ার কাজের চাপ আর ডেডলাইনের চক্করে পড়ে মা-বাবার অজান্তেই কীভাবে শৈশব একা হয়ে পড়ছে, সেই রূঢ় বাস্তবকে আরও একবার সামনে এনেছে হায়দরাবাদের এক চাকুরিজীবী মায়ের এই আবেগঘন ভিডিও।

হায়দরাবাদের বাসিন্দা লাবণ্য ভট্টম পেশায় একজন কর্পোরেট কর্মী। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ছেলে ও তাঁর কথোপকথনের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি, যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।

ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় লাবণ্যর ছেলে বায়না করেছিল, সন্ধেয় মা অফিস থেকে ফিরলে দুজনে মিলে একটা গ্রিটিং কার্ড তৈরি করবে। লাবণ্যও হাসিমুখে ছেলেকে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু কর্পোরেট অফিসের কাজের অতিরিক্ত চাপ ও অতিরিক্ত ওয়ার্কলোডের কারণে বাড়ি ফিরতে ফিরতে তাঁর মাঝরাত হয়ে যায়। ততক্ষণে মায়ের অপেক্ষায় বসে থাকা ছোট্ট ছেলেটির মন ভেঙে চুরমার।

বাচ্চাটির ওই বিষণ্ণ মুখের কারণ জানতে চাইতেই সে কোনো দ্বিধা না করে মাকে সরাসরি প্রশ্ন করে বসে— তাঁর কাছে ছেলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি অফিস? ছেলের মুখে এমন কথা শুনে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যান লাবণ্য। নিজের ভুল বুঝতে পেরে তখনই ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করেন তিনি এবং বোঝান যে এই পৃথিবীতে তাঁর চেয়ে দামী আর কেউ নেই। তবে ওই রাতে ছেলে ঘুমিয়ে পড়লেও তাঁর প্রশ্নটি লাবণ্যর মনকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল।

পরদিন একজন দায়িত্বশীল মায়ের মতো পরিস্থিতি সামাল দিতে ছেলের পাশে বসেন লাবণ্য। পরম স্নেহে তাকে বোঝান যে, অফিস একটা দায়িত্ব এবং কাজের প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে দেরি হওয়া মানে এই নয় যে ছেলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কমে গেছে।

ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই লাইক ও কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। কর্পোরেট লাইফ এবং পরিবারের মাঝে ব্যালেন্স করতে গিয়ে প্রতিদিন যে লক্ষ লক্ষ কর্মজীবী মা-বাবা (Working Parents) এক অপরাধবোধ ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যান, কমেন্ট সেকশনে তাঁরা নিজেদের সেই চাপা কষ্টের কথা উগরে দিয়েছেন। একই সাথে, যেভাবে অত্যন্ত পরিপক্কতার সাথে লাবণ্য পুরো বিষয়টি সামলেছেন, তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *