দিল্লির আবাসেও কোণঠাসা তৃণমূল, বিদ্রোহী সাংসদের নির্দেশে পুরনো ঠিকানায় ফিরল দল

দিল্লির আবাসেও কোণঠাসা তৃণমূল, বিদ্রোহী সাংসদের নির্দেশে পুরনো ঠিকানায় ফিরল দল

কলকাতায় তৃণমূল ভবনের নোটিস পাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই দিল্লির দপ্তরে বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাসভবন থেকে রাতারাতি সরতে হলো দলের কার্যালয়। নেত্রীর নির্দেশ অমান্য করে পার্থ ভৌমিক নিজের সরকারি বাংলো খালি করার নির্দেশ দেওয়ায় বাধ্য হয়েই পুরনো ঠিকানায় ফিরল তৃণমূল।

বিদ্রোহী সাংসদের দাপটে ঘরছাড়া তৃণমূল

দিল্লির সংসদ ভবনের কাছে ২০ নম্বর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের সরকারি বাংলোটি এতদিন তৃণমূলের কেন্দ্রীয় দপ্তৰ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ওই বাড়িটি ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের নামে বরাদ্দ। দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে পার্থর দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় টানাপোড়েন। সূত্রের খবর, নেত্রীর প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে পার্থ ভৌমিক তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে তৃণমূলের দপ্তর সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, তড়িঘড়ি বাংলো থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টার এবং দলের সাইনবোর্ড খুলে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন কর্মীরা।

ফিরে আসা পুরনো ঠিকানা

দিল্লির এই পরিস্থিতির পর তৃণমূলের নতুন কার্যালয় হিসেবে পুনরায় বেছে নেওয়া হয়েছে ৬১ নম্বর সাউথ এভিনিউয়ের বাসভবনটিকে। এটি রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নামে বরাদ্দ। দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, ২০১৭ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের দপ্তর এই সাউথ এভিনিউতেই ছিল। পরে সংস্কারের প্রয়োজনে দপ্তরটি সেখান থেকে সরিয়ে পার্থ ভৌমিকের বাংলোয় স্থানান্তরিত করা হয়। বিদ্রোহী সাংসদের চাপে পড়ে দল ফের তাদের সেই পুরনো ঠিকানায় ফিরতে বাধ্য হলো।

কলকাতার পর দিল্লিতেও এই ঘটনা দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একদিকে দলের মালিকানাধীন ভবনের আইনি সংকট এবং অন্যদিকে দলেরই বিদ্রোহী সাংসদদের অসহযোগিতা, সব মিলিয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *