লাইব্রেরি থেকে সরছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই, এবার রাষ্ট্রবাদী চেতনার প্রসারে নতুন উদ্যোগ

রাজ্যের সরকারি গ্রন্থাগারগুলোর আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বর্তমান প্রশাসন। সম্প্রতি শপথ নেওয়ার পর জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ ঘোষণা করেছেন যে, সরকারি গ্রন্থাগারগুলো থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই সরিয়ে ফেলা হবে। বিশেষ করে ‘এপাং-ওপাং-ঝপাং’-এর মতো বইগুলো ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান অর্জনে সহায়ক নয় বলেই মনে করছে নতুন নেতৃত্ব। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গ্রন্থাগারগুলোকে কেবল বই রাখার স্থান হিসেবে নয়, বরং আদর্শিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী।
ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন ও নতুন পাঠক্রমের লক্ষ্য
মন্ত্রীর দাবি, বিগত সরকার একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতায় চলেছিল এবং রাজ্যের বহু মনীষীকে ইচ্ছাকৃতভাবে আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গ্রন্থাগারগুলোতে স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলামের পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের জীবনী ও রচনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, গ্রন্থাগারে এখন থেকে কেবল জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদ এবং আধুনিক বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে বই সংগ্রহ করা হবে। শুধু মুদ্রিত বই নয়, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ই-লাইব্রেরি তৈরির পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে সরকার।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও শিক্ষার নতুন দিকনির্দেশনা
এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য রাজনীতির এক গভীর আদর্শিক লড়াই। সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এবং জাতীয় স্তরের নেতারা বারংবার অভিযোগ তুলেছেন যে, এতদিন পাঠ্যবই বা সরকারি নথিপত্রে ভারতের গৌরবময় ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। আরএসএস-সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও বাংলার শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের দাবি তোলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রন্থাগার থেকে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বই সরিয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনার বই অন্তর্ভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত মূলত পাঠ্যক্রম ও সাংস্কৃতিক পরিসরে দীর্ঘদিনের জমে থাকা সেই দাবি পূরণেরই প্রথম ধাপ। ভবিষ্যতে এই ধারা রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক নীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়।