বর্ষার শুরুতেই অশনি সংকেত! আরও শক্তিশালী হচ্ছে ‘এল নিনো’, খরা-দাবদাহের আশঙ্কায় ভারত

বর্ষার শুরুতেই অশনি সংকেত! আরও শক্তিশালী হচ্ছে ‘এল নিনো’, খরা-দাবদাহের আশঙ্কায় ভারত

নয়াদিল্লি: দেশের বুকে বর্ষা পা রাখার মুখেই এক বড়সড় আশঙ্কার কথা শোনাল ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)। প্রশান্ত মহাসাগরে বিপজ্জনক ‘এল নিনো’ (El Nino) পরিস্থিতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি বছর বর্ষার মরশুম যত এগোবে, এই এল নিনো আরও বেশি শক্তিশালী ও দাপুটে হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

মৌসম ভবনের বুলেটিন অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়ে ‘এল নিনো’র নির্দিষ্ট সীমারেখা অতিক্রম করে গিয়েছে। সমুদ্রের এই উষ্ণায়নের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলও সমান্তরালভাবে সাড়া দিতে শুরু করেছে। যার স্পষ্ট অর্থ, সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের যৌথ সিস্টেমটি এখন সম্পূর্ণভাবে ‘এল নিনো’র গ্রাসে চলে গিয়েছে। জুন ২০২৬-এর আবহাওয়া রিপোর্ট বলছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই বিপদসীমা পার করেছে।

ভারতে কেন বাড়ছে খরা ও দাবদাহের ঝুঁকি?

সাধারণত ‘এল নিনো’ হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের অতিরিক্ত উষ্ণায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতের আবহাওয়ার ইতিহাসে এই ‘এল নিনো’র রেকর্ড মোটেও ভালো নয়। ঐতিহাসিকভাবে, এটি সক্রিয় থাকলে ভারতে বর্ষার বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কমে যায়। এর ফলে দেশের একাধিক রাজ্যে তীব্র দাবদাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মরশুম এবং ভয়াবহ খরার (Drought) ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।

একমাত্র আশার আলো ‘পজিটিভ আইওডি’:

আইএমডি জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ভারত মহাসাগরে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD) পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থায় রয়েছে। তবে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (JMA) ভারতের জন্য একটি সম্ভাব্য আশার আলোর কথা শুনিয়েছে। জাজল আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী জুলাই মাসের আশেপাশে ভারত মহাসাগরে একটি ‘পজিটিভ আইওডি’ (Positive IOD) তৈরি হতে পারে।

যদি তা সত্যি হয়, তবে ভারত মহাসাগরের সেই পজিটিভ প্রভাব প্রশান্ত মহাসাগরের সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনো’র (Super El Nino) ক্ষতিকর প্রভাবকে অনেকটাই রুখে দিতে পারবে। ফলে ভারত ভয়াবহ খরা বা বৃষ্টির চরম ঘাটতি থেকে রক্ষা পেতে পারে। তবে আপাতত এল নিনোর এই বাড়বাড়ন্ত ভারতের চাষবাস এবং সামগ্রিক আবহাওয়ার ওপর একটা বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *