পঞ্চায়েতে ১১ হাজার কর্মী নিয়োগের বিরাট ঘোষণা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের!

পঞ্চায়েতে ১১ হাজার কর্মী নিয়োগের বিরাট ঘোষণা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের!

রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরে কাজে গতি আনতে বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের পথে হাঁটতে চলেছে সরকার। উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে শিলিগুড়ির মৈনাক ট্যুরিস্ট লজে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ১১ হাজার শূন্যপদে কর্মী নিয়োগের এই বড় ঘোষণা করেছেন। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার জেলাশাসক সহ মহকুমা ও জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গ্রামীণ উন্নয়নের এই নতুন রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

নিয়োগের কারণ ও পাহাড়ের পরিস্থিতি

মূলত গ্রামীণ এলাকার প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই বিশাল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, কেন্দ্র বকেয়া টাকা পাঠাতে শুরু করেছে এবং গ্রামাঞ্চলে ১২৫ দিনের কাজের পাশাপাশি জব কার্ড বিলির কাজও জোরকদমে শুরু হয়েছে। তবে কর্মী সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় অনেক জায়গায় উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া, পাহাড়ে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু হলেও পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি না হওয়ায় নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি বহু নির্বাচিত প্রতিনিধি কাজে যোগ দিচ্ছেন না বা পদত্যাগ করছেন। এই প্রশাসনিক শূন্যতা ও কর্মী সংকট দূর করে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে তৃণমূল স্তরে আরও সক্রিয় করে তুলতেই এই ১১ হাজার নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে গ্রামাঞ্চলের কাজে গতি আসার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানেরও বড় সুযোগ তৈরি হবে।

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা ও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ

পঞ্চায়েত দপ্তরের এই উদ্যোগের পাশাপাশি মালদহে এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রসারে বিশেষ জোর দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ তারিখ বিশেষ জনকল্যাণ শিবিরের ঘোষণা করেছেন তিনি। এই শিবিরগুলিতে বিধায়ক এবং বিডিওদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যবাসীর জন্য এবার দেশজুড়ে প্রযোজ্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প কার্যকর হচ্ছে। যে সমস্ত উপভোক্তারা বর্তমানে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের অধীনে রয়েছেন, তাঁদের ধীরে ধীরে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এ স্থানান্তরিত করা হচ্ছে যাতে তাঁরা দেশের যেকোনো প্রান্তে এই চিকিৎসা পরিষেবা পেতে পারেন। প্রশাসনের এই ধারাবাহিক ও সমন্বিত পদক্ষেপগুলি রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *