১-২ নয়, ২৫টি বিয়ে! ডিভোর্সি ও অসহায় মহিলাদের ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা লুঠ করা ‘কিলাডি’ বর গ্রেফতার

ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে নিজেকে ‘আদর্শ পাত্র’ হিসেবে সাজিয়ে এক বা দু’জন নয়, একে একে ২৫ জন মহিলাকে বিয়ে করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক আন্তঃরাজ্য মহা-প্রতারককে গ্রেফতার করল মুম্বই পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, অনুজ কুমার চন্দ্রপ্রকাশ ত্রিবেদী নামের এই খতরনাক প্রতারক মূলত ডিভোর্সি, একা বা মানসিকভাবে দুর্বল মহিলাদের টার্গেট করত। ভুয়ো পরিচয়পত্র ও আবেগের নাটক তৈরি করে সে ভারতের অন্যতম বড় ম্যাট্রিমোনিয়াল স্ক্যাম চালাচ্ছিল। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডা থেকে ছদ্মবেশে থাকা এই প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, সে অজয় আগরওয়াল, অজয় সন্তোষ সিং এবং জয়প্রকাশ রমেশ চন্দ গুপ্তার মতো একাধিক ভুয়ো নাম ব্যবহার করত।
যেভাবে ফাঁস হলো এই বিশাল জালিয়াতি:
২০২২ সালের মার্চ মাসে মুম্বইয়ের নয়ানগর থানায় এক ৭৫ বছরের বৃদ্ধা অভিযোগ দায়ের করলে এই রোমহর্ষক মামলার জট খোলে। ওই বৃদ্ধা তাঁর ৪৫ বছর বয়সী মেয়ের জন্য ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেখানে নিজেকে ‘অজয় আগরওয়াল’ পরিচয় দিয়ে ২০১৯ সালে তাঁর মেয়েকে বিয়ে করে অনুজ।
পরিবারের বিশ্বাস অর্জন করার পর, সে মীরা রোডের ফ্ল্যাটটি বিক্রি করার জন্য বৃদ্ধাকে রাজি করায় এবং সেই টাকা দিয়ে অন্য জায়গায় দোতলা বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার টোপ দেয়। তার কথায় বিশ্বাস করে ওই পরিবার ধাপে ধাপে তাকে ৮২ লক্ষ টাকা দেয়।
দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে গয়না-টাকা নিয়ে চম্পট:
এরপর আত্মীয়ের বিয়ের বাহানা দিয়ে সে স্ত্রীকে দিল্লিতে নিয়ে যায়। সেখানে একটি রেলওয়ে স্টেশনে জোর করে তাঁকে মুম্বইয়ের ট্রেনে তুলে দিয়ে তাঁর কাছে থাকা ৩৩ ভরি সোনার গয়না কেড়ে নিয়ে চম্পট দেয় অনুজ। মোবাইল ফোন বন্ধ করে সে বেপাত্তা হয়ে যায়। এই জালিয়াতিতে ওই পরিবার প্রায় ৯৭ লক্ষ টাকা হারায়।
অসহায়তাই ছিল উপার্জনের রাস্তা:
তদন্তে নেমে পুলিশ অনুজের ভয়ঙ্কর জালিয়াতির নেটওয়ার্ক দেখে তাজ্জব বনে যায়। সে ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইট ও খবরের কাগজের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এমন মহিলাদের খুঁজত যাঁরা ডিভোর্সি, বিশেষভাবে সক্ষম বা কোনও সমস্যায় জর্জরিত। তাঁদের পাশে থাকার নাটক করে প্রথমে বিয়ে করত এবং পরে সর্বস্ব লুঠ করে পালাত।
বিলাসবহুল গাড়ি ও ছেলের যোগসাজশ:
লুঠের টাকা দিয়ে অনুজ প্রায় ২০ লক্ষ টাকার একটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছিল, যা পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। এছাড়াও তার কাছ থেকে ৩টি মোবাইল, একটি এটিএম কার্ড এবং ভুয়ো আইডি কার্ড উদ্ধার হয়েছে।
তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই জালিয়াতিতে অনুজের ছেলেও যুক্ত ছিল। বাবার প্রতিটি প্রতারণায় সে সাহায্য করত। তাই পুলিশ তাকেও এই মামলায় সহ-অভিযুক্ত করেছে। অমরাবতীতেও এক মহিলাকে ঠকিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় ওয়ান্টেড ছিল এই অনুজ।
বর্তমানে এই প্রতারক জেল হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ আবেদন জানিয়েছে, এই ‘কিলাডি’ বরের খপ্পরে পড়ে আর কোনও মহিলা বা পরিবার প্রতারিত হয়ে থাকলে তাঁরা যেন নির্ভয়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন। তদন্ত যত এগোবে, ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান পুলিশের।