পেটে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে যুবক, সিটি স্ক্যান রিপোর্ট দেখে চক্ষু চড়কগাছ চিকিৎসকদের!

পেটে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে যুবক, সিটি স্ক্যান রিপোর্ট দেখে চক্ষু চড়কগাছ চিকিৎসকদের!

নিউ ইয়র্ক: রাগ বা মানসিক অবসাদের বশে মানুষ যে কী কাণ্ড ঘটিয়ে বসতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত ও অদ্ভুত উদাহরণ মিলল আমেরিকায়। তীব্র পেটে যন্ত্রণা এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক ৩৪ বছর বয়সী যুবক। কিন্তু পরীক্ষার পর তাঁর পেটের ভেতরের রিপোর্ট দেখে রীতিমতো মাথায় হাত পড়ার জোগাড় চিকিৎসকদের। দেখা যায়, ওই যুবকের ক্ষুদ্রান্ত্রে (Small Intestine) আটকে রয়েছে কন্ডোমে মোড়ানো গোটা একটি কলা!

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে হইচই ফেলে দেওয়া এই ঘটনার পর তড়িঘড়ি অস্ত্রোপচার করে যুবকের প্রাণ বাঁচিয়েছেন চিকিৎসকরা।

৮ ঘণ্টা ধরে নরক যন্ত্রণা:

জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে মারাত্মক পেটে যন্ত্রণা, বমি, শ্বাসকষ্ট এবং মূত্রত্যাগের সমস্যায় ছটফট করছিলেন ওই যুবক। অবস্থা বেগতিক দেখে পরিবারের লোকজন তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষার পর যুবকের পেটের সিটি স্ক্যান (CT Scan) করানোর সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই রিপোর্ট আসতেই চমকে ওঠেন সবাই। দেখা যায়, পরিপাকতন্ত্রের ভেতর অদ্ভুত একটি বস্তু আটকে রয়েছে। এরপর চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসাবাদে আসল সত্য স্বীকার করেন ওই যুবক।

রাগের মাথায় কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত:

যুবক জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক অবসাদে (Depression) ভুগছিলেন। একদিন প্রচণ্ড রাগের মাথায় ঘরে থাকা একটি আস্ত কলাকে কন্ডোমে জড়িয়ে গিলে ফেলেন তিনি। এই অদ্ভুত ও বিপজ্জনক কাণ্ডের কথা শুনে থ বনে যান চিকিৎসকরাও। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় আর সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল অস্ত্রোপচার (Surgery) করে ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে সেই কলাটি সফলভাবে বের করে আনে। বর্তমানে ওই যুবক সুস্থ আছেন এবং তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের কড়া সতর্কতা:

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাগ বা মানসিক উদ্বেগের বশে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত যেকোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী হতে পারে। প্লাস্টিক বা কন্ডোমের মতো জিনিস পেটে চলে গেলে তা হজম তো হয়ই না, উল্টে পরিপাকতন্ত্রকে সম্পূর্ণ ব্লক করে দেয় (Intestinal Obstruction)। সময়মতো অস্ত্রোপচার না হলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। মার্কিন মুলুকের এই অদ্ভুত ঘটনাটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *