রাজনীতি ভুলে পুরসভায় শুভেন্দুর ডাকে মমতার ভ্রাতৃবধূ কাজরী!

কলকাতা পুরসভায় এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্যের ছবি দেখা গেল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সোমবার স্বচ্ছতা অভিযান অনুষ্ঠানের সূচনায় প্রথমবার পুরসভায় এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের পক্ষ থেকে দলমত নির্বিশেষে সমস্ত কাউন্সিলরকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্য তথা তৃণমূল কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, সদ্যপ্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, প্রাক্তন চেয়ারপার্সন মালা রায়, দেবাশিস কুমার, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীম বসু ও জুঁই বিশ্বাসের মতো তৃণমূলের শীর্ষস্তরের কাউন্সিলররাও এদিন উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতেই কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেবাশিস কুমার এগিয়ে গিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান এবং শুভেন্দু অধিকারীও হাসিমুখে তাঁদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন।
উন্নয়নের স্বার্থে সমন্বয়
এই ঘটনার পেছনে মূল কারণ হলো পুর এলাকার নাগরিক পরিষেবা সচল রাখা এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আনা। কাউন্সিলরদের মতে, মেয়াদের বাকি সময়ে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ যাতে মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই বৈঠকে যোগ দেওয়া। কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের ডেকেছেন এবং এই উদ্যোগ তাঁর ভালো লেগেছে। অন্য তৃণমূল কাউন্সিলররাও স্পষ্ট করেছেন যে, পুরসভায় নাগরিক পরিষেবার স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনা জানতে এবং কাজ নিয়ে আলোচনা করতেই এই আসা, এর মধ্যে কোনো রাজনীতি নেই।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক প্রভাব
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রায়ই অভিযোগ উঠত যে বিরোধীদের কথা শোনা হয় না কিংবা উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। বর্তমান প্রশাসনের এই সর্বদলীয় সমন্বয় নীতি রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই প্রকাশ্য সৌজন্য এবং একসঙ্গে বসে কাজ করার মানসিকতা পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্মকে আরও গতিশীল ও জটিলতামুক্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় সংঘাত সরিয়ে রেখে নাগরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার এই ধারা রাজ্যের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় এক নতুন ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।