জনকল্যাণ শিবিরে শুরু হলো আয়ুষ্মান ভারতের আবেদন, বিনামূল্যে চিকিৎসা পেতে নাগরিকদের ভিড়

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকার গঠনের দেড়মাসের মধ্যেই এই স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর করা হলো। সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’। এই শিবিরগুলোতে অন্যান্য সরকারি পরিষেবার পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারত হেলথ কার্ডের জন্য সরাসরি আবেদন করতে পারছেন সাধারণ মানুষ। শিবির থেকে আবেদন করার সাথে সাথেই যোগ্য নাগরিকরা হাতে পেয়ে যাচ্ছেন তাঁদের ডিজিটাল হেলথ কার্ড।
কারা পাবেন এই সুবিধার আওতায়
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে আবেদনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এছাড়া ভূমিহীন পরিবার, দিনমজুর, তফশিলি জাতি ও উপজাতির অন্তর্ভুক্ত পরিবার এবং কাঁচা বা এক কামরার বাড়িতে বসবাসকারীরা আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। যেসব পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কোনো উপার্জনক্ষম পুরুষ সদস্য নেই, তাঁরাও এই তালিকায় রয়েছেন। তবে বিশেষ সুবিধায় রাখা হয়েছে প্রবীণ নাগরিকদের। বয়স ৭০ বছরের বেশি হলে আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে যেকোনো প্রবীণ ব্যক্তিই এই চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।
প্রয়োজনীয় নথি ও আবেদন প্রক্রিয়া
জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে আবেদন করার জন্য নাগরিকদের নির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও নথি সঙ্গে রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে [নথি ওমিত], রেশন কার্ড, সচল মোবাইল নম্বর এবং পরিবারের পরিচয় নির্ধারণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র। এছাড়া এই কার্ডের জন্য অনলাইনের মাধ্যমেও ঘরে বসে আবেদন করা সম্ভব। সেজন্য নাগরিকদের আয়ুষ্মান ভারত হেলথ অ্যাকাউন্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ডিজিটাল পরিচয়পত্র যাচাই করে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে। সমস্ত প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে ওয়েবসাইট থেকেই সরাসরি ডাউনলোড করা যাবে বিশেষ এই হেলথ কার্ড।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই কার্ডের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি বছর পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। প্রকল্পের আওতাভুক্ত দেশের যেকোনো হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে নাগরিকদের কোনো নগদ টাকার প্রয়োজন হবে না, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। এর ফলে শুধু হাসপাতালের ভেতরের খরচই নয়, বরং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের ৩ দিন এবং ছাড়া পাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত যাবতীয় ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচও এই বীমার মাধ্যমেই বহন করা সম্ভব হবে। সাধারণ মানুষের বড় অঙ্কের চিকিৎসার খরচ কমায় এটি রাজ্যের স্বাস্থ্য খাতের ওপর বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।