মাঝরাতে একুশের মঞ্চে বাইক বাহিনীর তাণ্ডব! রাস্তায় দাঁড়িয়ে সারা রাত পাহারা দিলেন মমতা

একুশে জুলাইয়ের মেগা সভার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে চরম উত্তেজনা! সোমবার গভীর রাতে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে তৃণমূলের সভামঞ্চে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
কী ঘটেছিল সোমবার রাতে?
- পরিকল্পিত হামলা: তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে ৬০-৬৫ জন বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে সভাস্থলে অতর্কিতে হামলা চালায়।
- বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন: সভার প্রস্তুতি বানচাল করতে সভাস্থলের বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয় এবং সযত্নে লাগানো ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ কর্মীদেরও রাস্তায় আটকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা।
- রাস্তাতেই রাত-পাহারা: ফের যাতে কোনো নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচেই মঞ্চ পাহারা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্ররা।
তৃণমূলের কড়া পদক্ষেপ ও সকালের ছবি
সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এলাকায় বিজেপি কর্মীদের জমায়েতের খবর তাঁদের কাছে আগে থেকেই ছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের স্পষ্ট দাবি, আদালতের পূর্ণ আইনি অনুমতি থাকা সত্ত্বেও এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, সেই তথ্যও তাঁদের হাতে রয়েছে। গোটা বিষয়টি ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সভাস্থলেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক সেরে তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাতের এই আকস্মিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই, আজ সকাল থেকে কলকাতার রাজপথে একুশের সভায় যোগ দিতে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ঢল নামতে শুরু করেছে।