৩ দফা দাবি ও ৩৬ দিনের লড়াই! ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পরেই মুখ খুললেন ‘ককরোচ’ প্রধান অভিজিৎ

যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিনের দীর্ঘ অবস্থান বিক্ষোভের পর অবশেষে এল ঐতিহাসিক সাফল্য। তিন দফা দাবির প্রথমটি পূরণ করে শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। বাকি দুটি দাবিও দ্রুত পূরণ করা হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আশ্বাস মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে নজির সৃষ্টি করে আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসার ঘোষণা করল ‘ককরোচ’ নামে পরিচিত সিজেপি (CJP) নেতৃত্ব।
আন্দোলনের এই জয়ের পর মুখ খুলেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, “আমরা সত্যি করে দেখালাম। কী বলত এরা? এই সরকারে ইস্তফা দেওয়া হয় না। আমরা বলি, ‘ঝুকতি হ্যায় দুনিয়া, ঝুকানে ওয়ালা চাহিয়ে’। এই জয় সেই সকল বাচ্চাদের জন্য, যাদের প্রাণ কেড়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধান। আজ এরা ন্যায় পেল।”
এখানেই থেমে থাকেননি অভিজিৎ। আরও বেশি ইঙ্গিতপূর্ণ সুরে তিনি বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা তো সবে শুরু। এই পদত্যাগ প্রমাণ করে যে, যদি আপনারা ভয় না পান এবং এই সরকারের সামনে মাথা নত না করেন, তবে আরও বড় বড় নেতারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন। তাই ভয় পাবেন না। এটাই আসল গণতন্ত্র। যদি গণতন্ত্রে কথা বলার অধিকারই না থাকে, তবে সেটা কীসের গণতন্ত্র? নিজেদের আওয়াজ তুললেই তবেই এরা লাইনে থাকবে। আর এদের লাইনে রাখা দরকার, কারণ এরা নিজেদের বাদশা ভেবে বসে থাকলেও, আমাদের জন্যই আজ ক্ষমতার আসনে রয়েছে।”
এদিন ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ঘোষণার পরেও নিজেদের বিক্ষোভে অনড় ছিল ককরোচ বাহিনী। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তৃতীয় দফার ফলপ্রসূ বৈঠকের পর অবশেষে অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার ঘোষণা করা হয়। বৈঠক শেষে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার তাঁদের বাকি দুটি শর্ত মেনে নিতেও রাজি হয়েছে।
জানা গেছে, আন্দোলনকারীদের সমস্ত আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা এবং NEET প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস মিলেছে। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে এই দুটি দাবিও পুরোপুরি কার্যকর হবে বলে আশাবাদী সিজেপি নেতৃত্ব।