“উর্দির সংযম কোথায়?” যন্তর মন্তরে ছাত্র পেটানো ও পুলিশি হিংসা নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের মারমুখী ভূমিকা ও সাম্প্রতিককালে উর্দির ক্রমবর্ধমান অপেশাদারি আচরণ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞা। প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তা যশবর্ধন আজাদের লিখিত ‘পোলিসিং দ্য রিপাবলিক’ (Policing the Republic) বইটির উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, একজন পুলিশ আধিকারিকের থেকে যে নিরপেক্ষতা ও সংযম আশা করা হয়, তা আজকাল সমাজ থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে যা একটি গণতান্ত্রিক দেশের পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগের।
আইনশৃঙ্খলার প্রতীক বনাম ক্ষমতার অপব্যবহার বিক্ষোভ দমনে তরুণ ও উচ্চপদস্থ আইপিএস (IPS) আধিকারিকদের সরাসরি রাস্তায় নেমে আন্দোলনকারীদের মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিচারপতি ভূঞা বলেন, “সাধারণ মানুষের কাছে রাস্তায় দাঁড়ানো একজন কনস্টেবল এবং তাঁর হাতের লাঠি-বাঁশিই হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। পুলিশই যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তবে সাধারণ মানুষের মনে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নষ্ট হবে এবং সমাজে নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়বে।”
যন্তর মন্তরের ঘটনা ও সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত প্যানেল উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে আয়োজিত ছাত্র বিক্ষোভ দমনে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি বা প্যানেল গঠন করেছে।
হেফাজতে মৃত্যু ও ‘এনকাউন্টার সংস্কৃতি’ নিয়ে কড়া হুশিয়ারি শুধু যন্তর মন্তরের ঘটনাই নয়, দেশে ক্রমাগত বাড়তে থাকা হেফাজতে নির্যাতন ও তথাকথিত ‘ভুয়ো এনকাউন্টার’ নিয়ে কড়া বার্তা দেন বিচারপতি ভূঞা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন:
- মৌলিক অধিকার অবিনশ্বর: কোনো নাগরিক গ্রেফতার হলেই তাঁর সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার শেষ হয়ে যায় না।
- হেফাজতে নির্যাতন জঘন্যতম অপরাধ: আইনের শাসনে পরিচালিত সভ্য সমাজে পুলিশি হেফাজতে রেখে নির্যাতন ও মৃত্যু সবচেয়ে বরদাস্ত-অযোগ্য অপরাধ।
- এনকাউন্টার মানসিকতা অপরাধমূলক: সাজানো এনকাউন্টার কোনো বীরত্ব নয়, এটি মূলত একটি ‘অপরাধমূলক মানসিকতা’ (Criminal Philosophy) যা গণতান্ত্রিক আইনি ব্যবস্থার মূল ভিত্তি ধ্বংস করে দেয়। সাজানো এনকাউন্টারে যুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।