পুরভোটের আগেই বিজেপির ‘মাস্টারপ্ল্যান’: ঘর গোছাতে কর্মীদের কড়া বার্তা সুকান্তের!

কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই কোমর বাঁধছে বিজেপি। বেলেঘাটা বিধানসভা এলাকার ডিলিমিটেশন-পরবর্তী ৪৫ নম্বর (প্রাক্তন ২৯ নম্বর) ওয়ার্ডের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা পুরভোটে বিজেপির ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার। বৈঠক থেকে আগামী নির্বাচনে বাজিমাত করতে কর্মীদের জন্য ৫ দফা বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি।
পুরভোটে জয়ের ৫ দফা ‘মাস্টারপ্ল্যান’:
- বিরোধী সমর্থকদের দুয়ারে পৌঁছানো: শুধু নিজেদের সমর্থক নয়, এলাকায় বিরোধী শিবিরের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ ও সাফল্য তুলে ধরতে হবে।
- আদি-নব্য বিতর্কের অবসান: দলে ‘পুরোনো’ ও ‘নতুন’ কর্মীদের সমস্ত বিভাজন মুছে ফেলে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে। প্রবীণ বা আদি কর্মীদের অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসূচি নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- বিশেষ কমিটির সমন্বয়: কলকাতা পুরসভার জন্য তৈরি ২৩ সদস্যের বিশেষ কমিটির সাথে সমন্বয় রেখে সমস্ত সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
- জনসেবায় বাড়তি নজর: বেলেঘাটায় বিরোধী দলের বিধায়ক থাকলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা আন্তরিকতার সাথে শুনতে হবে এবং তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
- দক্ষতার মাধ্যমে আস্থা অর্জন: অনাবশ্যক বিতর্ক এড়িয়ে নিজেদের কাজের গতি ও দক্ষতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে হবে।
শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ও কার্নিভাল প্রসঙ্গে বার্তা: বৈঠক শেষে সুকান্ত মজুমদার সাম্প্রতিক রাজনীতি ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এবিভিপি ও এসএফআই-এর মধ্যে সংঘর্ষ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, শিক্ষাঙ্গনে হিংসা ও রক্তক্ষয়ী রাজনীতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা ও আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি, রেড রোডে রাস্তা বন্ধ করে পুজো কার্নিভালের বিরোধিতায় রাজ্য প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ধর্ম-বর্ণ ও দল নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করে—বিজেপি শুরু থেকেই এই আদর্শে বিশ্বাসী।
আজ থেকেই প্রতিটি ওয়ার্ডের দরজায় দরজায় গিয়ে প্রচার ও মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজাকেই এই নির্বাচনের প্রধান কৌশল হিসেবে নির্ধারণ করেছে পদ্ম শিবির।