‘আমি ভারতের, ভারতও আমার!’ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর জীবনের বড় পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন আদনান সামি

‘আমি ভারতের, ভারতও আমার!’ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর জীবনের বড় পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন আদনান সামি

একসময়ের পাকিস্তানি নাগরিক, জনপ্রিয় সুরকার ও গায়ক আদনান সামি ২০১৬ সালে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতের নাগরিকত্ব অর্জন করেন। সম্প্রতি চলচ্চিত্র বাণিজ্য বিশ্লেষক কোমল নাহাটার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা, সঙ্গীতের সফর এবং মানসিক রূপান্তর নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি।

আদনান জানান, ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পরই দেশের সঙ্গে তাঁর মানসিক টান অন্য এক মাত্রায় পৌঁছায়। ২০০১ সালে প্রথমবার ভিজিটর ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন তিনি। নিজের জাদুকরী কণ্ঠ ও সুরে খুব দ্রুতই জয় করে নেন কোটি কোটি সঙ্গীতপ্রেমীর মন। ২০১৫ সালে তাঁর পাকিস্তানি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলেও তা আর নবীকরণ করা হয়নি। পরবর্তীতে সংস্কৃতি ও শিল্পে তাঁর বিশেষ অবদান এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি ভারত সরকার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব প্রদান করে।

পাকিস্তান ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে আদনান জানান, সেখানে নিজের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। সেই সঙ্গে ভারতে স্থায়ী হওয়ার ক্ষেত্রে কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলার অনুপ্রেরণাও বড় ভূমিকা রেখেছিল। গায়কের মতে, আগে বিদেশি হিসেবে কাজ করলেও, নাগরিকত্ব পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সংযোগ চিরতরে বদলে যায়। আবেগে ভেসে তিনি বলেন, “আমি ভারতের হয়ে গেলাম এবং ভারতও আমার হয়ে গেল।”

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘কভি তো নজর মিলাও’ দিয়ে ভারতে সুরের যাত্রা শুরু করা আদনান সামি পরবর্তীতে পপ ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতসহ বহু কালজয়ী হিন্দি গান উপহার দিয়েছেন। সঙ্গীত জগতে এই অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত করে। ভারতীয় হিসেবে প্রায় ১০ বছর পূর্ণ করার পর, দেশের প্রতি তাঁর এই গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা এখন নেটদুনিয়ায় ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *