জোড়াফুলের আসল মালিক কে? উপনির্বাচনের আগে তুমুল প্রতীক-দ্বন্দ্বে শাসকশিবির!

রাজ্যের দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ এখন চরমে। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রচারের আগেই মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের মালিকানা নিয়ে অভূতপূর্ব এক সংঘাত।
তৃণমূল কংগ্রেসের দুটি প্রধান শিবিরই নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে ঘাসফুল প্রতীকের ওপর সম্পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছে। এই নজিরবিহীন টানাপোড়েনের জল ইতিমধ্যেই আদালত থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে দুই পক্ষই জোর তৎপরতা শুরু করেছে, যার ফলে এই উপনির্বাচন উভয় শিবিরের কাছেই এক বড় ‘প্রেস্টিজ ফাইট’-এ পরিণত হয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, ঘাসফুল প্রতীকের দাবি জানিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দুই দফায় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে পিছিয়ে নেই ঋতব্রত শিবিরও। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের সমস্ত বিধি মেনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতিমধ্যেই জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে তারা শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। আগামী ১০ তারিখ সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধের কারণে নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। দুই কেন্দ্রেই শক্তিশালী সংগঠনের দাবি করা হলেও, প্রতীকের ফয়সালা না হওয়ায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ আটকে রয়েছে। দলীয় কোন্দল সত্ত্বেও কোনো পক্ষই লড়াইয়ের ময়দান বিনা যুদ্ধে ছাড়তে রাজি নয়। ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে ঋতব্রত শিবিরের নেতারা নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট আত্মপ্রত্যয়ী। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে রায় দেয় এবং কার হাতে জোড়াফুলের আসল প্রতীক তুলে দেয়।