জ্বর হলেই কমছে প্লেটলেট! মারাত্মক ঝুঁকির মুখে আত্মচিকিৎসা, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

জ্বর হলেই কমছে প্লেটলেট! মারাত্মক ঝুঁকির মুখে আত্মচিকিৎসা, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব এবং আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনে ফিরোজাবাদ জেলাজুড়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে ভাইরাল জ্বর। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিশু ও প্রবীণ— সব বয়সের মানুষের মধ্যেই তীব্র ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি, টানা জ্বর ও সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণার মতো লক্ষণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সাধারণ মানুষকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ফিরোজাবাদ সরকারি মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগে (OPD) প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক নতুন রোগী চিকিৎসার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন। দূরদূরান্তের গ্রাম ও মফস্বল এলাকা থেকে দলে দলে মানুষ চিকিৎসা পেতে হাসপাতালে হাজির হচ্ছেন, যার ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে তৈরি হয়েছে ভিড়ের চাপ।

মেডিকেল কলেজের প্রবীণ চিকিৎসক ড. মনোজ কুমার জানান, আবহাওয়ার এই সন্ধিক্ষণ ভাইরাসের দ্রুত বংশবৃদ্ধি ও বিস্তারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এটি বাতাস এবং পারস্পরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে অতি সহজে একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করা, করমর্দন করা বা সংক্রমিত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি থাকা এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ।

প্লেটলেট কমছে, বাড়ছে আত্মচিকিৎসার ভয়াবহ ঝুঁকি ডাক্তাররা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগীদের রক্তের প্লেটলেট (অণুচক্রিকা) কমে যাওয়া নিয়ে। কয়েক দিন ধরে একটানা জ্বর থাকার ফলে অনেক রোগীর রক্তেই প্লেটলেটের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ বা রক্ত পরীক্ষা না করিয়ে নিজেরাই ফার্মেসি থেকে প্লেটলেট বাড়ানোর ওষুধ কিনে সেবন করছেন। ড. মনোজ কুমার কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, কোনো ধরনের রক্ত পরীক্ষা বা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া প্লেটলেট বৃদ্ধির ওষুধ সেবন করা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এর ফলে রোগী স্থায়ীভাবে কিডনি বা লিভারের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

সংক্রমণ এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

  • শারীরিক দূরত্ব: ঘরে বা বাইরে কেউ অসুস্থ থাকলে তাঁর থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন। করমর্দন বা কোলাকুলি এড়িয়ে চলুন।
  • পরিচ্ছন্নতা: বাইরের যেকোনো বস্তু স্পর্শ করার পর সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করুন।
  • বিশ্রাম ও সতর্কতা: আক্রান্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন এবং সুস্থ মানুষদের থেকে নিজেকে সাময়িকভাবে আলাদা রাখুন।
  • আত্মচিকিৎসা বর্জন: জ্বর বা শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে কিংবা হাতুড়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে দ্রুত নিবন্ধিত (রেজিস্টার্ড) চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকদের বার্তা স্পষ্ট— আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক সময় চিকিৎসা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলাই এই মরশুমে সুস্থ থাকার একমাত্র উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *